মাদারীপুরের নয়াচর ও চরমুগরিয়া এলাকায় খাবারের সংকটে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বানরের দল। এলাকার গাছপালায় প্রায় এক হাজার বানরের বাস। আগে তারা দল বেঁধে চলত, কারও তেমন ক্ষতি করত না। এখন পথে কারও হাতে খাবার দেখলেই কেড়ে নিচ্ছে, দিনের বেলায় রান্নাঘর ও ঘরে ঢুকে খাবার নিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের জুন থেকে বানরগুলোর জন্য সরকারি খাদ্য বরাদ্দ বন্ধ। নিয়মিত খাবার না পেয়েই বানরগুলো বসতবাড়িতে আসছে বলে তাঁদের দাবি। জনবসতি বাড়া এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়াও এর কারণ বলে মনে করেন তাঁরা। এতে মানুষ ও বানরের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে, বানরগুলোর অস্তিত্ব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির শেখ বলেন, ক্ষুধার কারণেই বানরগুলো মানুষের কাছে আসছে; খাবারের ব্যবস্থা না হলে এভাবেই আসতে থাকবে, ক্ষতি হচ্ছে দুই পক্ষেরই। আরেক বাসিন্দা আকলিমা বলেন, আগে বানরগুলো গাছপালায় থাকত, এখন প্রায়ই বাড়িতে চলে আসে, ঘরে খাবার রাখাও নিরাপদ নয়।
কয়েকজন পশুপ্রেমী নিজেদের সামর্থ্যে বানরগুলোকে খাবার দিচ্ছেন। তাঁদের একজন অটোরিকশাচালক সাব্বির হোসেন বলেন, রোজগারের টাকায় সংসার চালিয়ে যতটুকু পারেন বানর ও অন্য পশুপাখিকে খাবার দেন, কিন্তু প্রায় এক হাজার বানরের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিয়মিত খাবার জোগানো কঠিন।
সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বানরগুলোর খাবারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো পাওয়া যায়নি। তাই সরকারিভাবে খাবার সরবরাহ আবার চালু করা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের মাদারীপুর সংবাদদাতার।
ছবি: Syed Sajidul Islam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); সুন্দরবনের একটি রেসাস বানর।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)