ল্যাপটপ খুলে বসার কিছুক্ষণের মধ্যে ঘাড়ে টান, একটানা কাজের পর উঠতে গিয়ে পিঠে ব্যথা: এখন কমবয়সিদের মধ্যেও এই সমস্যা বাড়ছে। পড়াশোনা থেকে অফিস, দিনের বড় অংশ স্ক্রিনের সামনে কাটে, আর কাজের ব্যস্ততায় বসার ভঙ্গির কথা অনেকেই ভুলে যান। জাগো নিউজের লাইফস্টাইল ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিক ও হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য ধরে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে।
প্রথম বিষয় স্ক্রিনের অবস্থান। টেবিলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করলে পর্দা দেখতে ঘাড় নিচু করতে হয়, দীর্ঘক্ষণ এমন থাকলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে চাপ পড়ে। স্ক্রিনের ওপরের অংশ চোখের সমতলে রাখার চেষ্টা করতে হবে, প্রয়োজনে ল্যাপটপ স্ট্যান্ড আর আলাদা কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করা যায়। পর্দা এমন দূরত্বে থাকবে যাতে সামনে ঝুঁকে পড়তে না হয়।
চেয়ারে পিঠ স্বাভাবিকভাবে সোজা রাখা আর প্রয়োজনে কোমরের পেছনে ছোট কুশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দুই পায়ের পাতা মেঝেতে সমান থাকবে, পা না পৌঁছালে ফুটরেস্ট; কাঁধ অযথা উঁচু থাকবে না, কনুই শরীরের কাছে রেখে টাইপ করতে হবে। তবে সোজা হয়ে বসা মানে একই ভঙ্গিতে স্থির থাকা নয়, প্রয়োজনমতো অবস্থান বদলাতে হবে।
প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অন্তর কিছুক্ষণ উঠে দাঁড়ানো বা একটু হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। কাজের ফাঁকে ঘাড় ধীরে ডানে-বাঁয়ে ঘোরানো আর কাঁধ আলতো করে ঘোরানো যায়, তবে কোনো স্ট্রেচিংয়ে ব্যথা বাড়লে জোর করা যাবে না। লেখা ছোট হলে মানুষ অজান্তে ঝুঁকে পড়েন, তাই লেখার আকার বাড়িয়ে নেওয়া এবং মাঝেমধ্যে দূরের কিছুর দিকে তাকানোর পরামর্শও আছে।
বসার ভঙ্গি বদলানো, বিরতি আর হালকা নড়াচড়ার পরও ব্যথা না কমলে, ব্যথা বাড়তে থাকলে, ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হলে বা ব্যথা হাতের দিকে ছড়ালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ঘাড় বা হাতে অসাড়তা, ঝিনঝিন করা কিংবা হাতের শক্তি কমে যাওয়াও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার লক্ষণ।
হঠাৎ তীব্র ব্যথা, হাঁটাচলায় সমস্যা বা প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিবর্তন দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে, বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ছবি: Pavel Soro London / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)