জনবল সংকট, অচল যন্ত্রপাতি আর ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগীর চাপে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ রোগী ভর্তি থাকেন, বহির্বিভাগে আসেন দুই থেকে আড়াই হাজার। শয্যা না পেয়ে অনেককে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকসহ অনুমোদিত জনবল ১,১২০ জন, কর্মরত ৯৫৪ জন। চিকিৎসকের ২১৮টি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ১৩০ জন, ৮৮টি পদ শূন্য, যা প্রায় ৪০ শতাংশ। প্রথম শ্রেণির নার্সিংয়ের চারটি পদের সব কটিই শূন্য। ২৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল।
এমআরআই, সিটি স্ক্যানসহ কয়েকটি পরীক্ষার যন্ত্র অচল; এর মধ্যে এমআরআই মেশিনটি প্রায় ১১ বছর ধরে বন্ধ। ফলে ভর্তি রোগীদের এমআরআই করাতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। জনবল সংকটে অনেক সময় দুপুর ১২টার মধ্যেই পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায় বলেও অভিযোগ আছে।
বিরল উপজেলার কাদের নেওয়াজ (৭০) গত সপ্তাহে স্নায়ুর সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন। তাঁর ছেলে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান জানান, চিকিৎসক ৮ থেকে ১০টি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, রক্তের একটি ছাড়া প্রায় সবই বাইরে থেকে করাতে হয়েছে। হাসপাতালের ফটক ও বিভিন্ন বিভাগের আশপাশে দালালেরা রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান; সিঁড়ি ও শৌচাগারের অপরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, জনবল সংকটে কিছু সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন বাতিল ঘোষণা করে নতুন মেশিনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, দ্রুত পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা; অন্যান্য যন্ত্র সচল আছে। এক হাজার শয্যার জনবল কাঠামোর তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদনটি আমার দেশের।
ছবি: Bhaskar Bhattacharjee barshan / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)