ভারতের লাদাখে অনুর্বর জমিতে জাফরান চাষের পরীক্ষামূলক উদ্যোগে রোপণের এক মাসের কম সময়েই ফুল ফুটেছে, যেখানে প্রশাসন প্রায় দুই মাস লাগবে বলে ধরে নিয়েছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চার দিনে প্রায় ২২ গ্রাম জাফরান তোলা হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনের আন্তর্জাতিক ডেস্ক খবরটি দিয়েছে।
লেহর স্পিতুক ফারকায় পুনরুদ্ধার করা প্রায় ৪ হাজার বর্গমিটার জমিতে গত ১ অক্টোবর ইরানের উন্নত মানের প্রায় ৯০ হাজার জাফরান কন্দ লাগানো হয়, যার মোট ওজন ছিল ৮০০ কেজি। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি ফুল ফুটছিল; রবিবার সকালে ফোটে ৭২টি, এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ।
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনার উদ্যোগে প্রকল্পটি চলছে। ক্ষেত পরিদর্শন করে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের এই ফুল প্রমাণ করে, লাদাখের প্রতিকূল ভূপ্রকৃতিতেও উচ্চমূল্যের ফসল সম্ভব; বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে স্থানীয় কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জমিটি আগে চাষের অনুপযোগী ছিল। প্রকল্প হিম সরোবরের আওতায় বরফগলা পানি ধরে রেখে পানির প্রাপ্যতা বাড়িয়ে এটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। গত মে মাসে স্পিতুকের কাছে প্রায় ৮০০ একর অনুর্বর জমি চিহ্নিত করা হয়, আর পুনরুজ্জীবিত ইগু-ফে সেচখালের বাড়তি পানি সেদিকে সরিয়ে মাটির আর্দ্রতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। লাদাখে বছরে ১০০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টি হয়, কৃষি চলে মূলত হিমবাহের গলা পানিতে।
ভারতে জাফরান বলতে মূলত কাশ্মীর, বিশেষ করে পাম্পোর; লাদাখ প্রশাসনের হিসাবে দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে। প্রতিটি ফুলে মাত্র তিনটি লাল গর্ভদণ্ড থাকে, যা সাবধানে তুলে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়, তাই চাষটি শ্রমসাধ্য।
লাদাখে জাফরানের পরীক্ষা এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের মার্চে প্রশাসন জানিয়েছিল, বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের (সিএসআইআর) অধীন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা দুই বছর ধরে এ নিয়ে কাজ করছেন। বিকল্প জীবিকার খোঁজে সেখানে লিলিয়াম ও গ্ল্যাডিওলাসের মতো উচ্চমূল্যের ফুল চাষেরও পরীক্ষা হয়েছে।
ছবি: Zeynel Cebeci / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)