চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ২৩৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে বরজ আছে ১ হাজার ৭২টি, আর উৎপাদন ভালো হলে বছরে প্রায় ৫২ কোটি টাকার পান বিক্রি হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ চাষে জড়িত ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ, জানিয়েছে জাগো নিউজ ২৪।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নানা গ্রামে বহু বছর ধরে পান চাষ হয়। পান তোলা, বাছাই, সাজানো, পরিবহন ও বিপণন ঘিরে গড়ে উঠেছে স্থানীয় কর্মসংস্থান। কৃষকেরা জানান, একটি লতা থেকে কয়েক দশক পর্যন্ত পান পাওয়া যায় বলে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের আশায় অনেকে এ চাষে আসছেন।
তবে বরজের নিয়মিত পরিচর্যা, সার, কীটনাশক আর শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। মজুরি বাড়ায় অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই বরজে কাজ করছেন। উত্তর আলগী ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের পানচাষি ফারুকুল ইসলাম গাজী বলেন, এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে পানের সঙ্গে জড়িত, পান বিক্রির আয়েই অনেক সংসার চলে।
চাষিদের বড় অভিযোগ দামের ফারাক নিয়ে। এক বিড়া পান কৃষকের কাছ থেকে প্রায় ৫০ টাকায় কেনা হলেও সাধারণ ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৫০ টাকা। নয়ানী গ্রামের পানচাষি আলমগীর হোসেন বলেন, উৎপাদন খরচ আর মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবে কৃষক প্রায়ই ন্যায্য দাম পান না; সরকারি সহযোগিতা, সহজ শর্তে ঋণ আর উন্নত বাজারব্যবস্থা দরকার।
হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকারের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তিনি বলেন, উপজেলায় পানের উৎপাদন ভালো হচ্ছে, বাজারে দামও ভালো, তাই কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। উৎপাদন বাড়াতে ও রোগবালাই থেকে বরজ বাঁচাতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি অফিস আর চাষির হিসাবের এই ফারাক পানের বাজারের পুরোনো সমস্যা: খেত থেকে দোকানে পৌঁছাতে দাম তিন গুণ হয়, কিন্তু বাড়তি টাকার বড় অংশ চাষির হাতে আসে না।
ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)