কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ছড়ায় মঙ্গলবার দুপুরে পলো, চাক জাল আর নানা উপকরণ নিয়ে হাঁটুপানিতে নেমেছিলেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অর্ধশতাধিক মানুষ। হেমন্তের এই পলো বাওয়া ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ ছিল, কিন্তু শিকারিদের মুখে একটাই আক্ষেপ: দেশি মাছ আর আগের মতো ধরা দিচ্ছে না।
শিকারিরা জানান, একসময় ফুলবাড়ীর ছড়া, খাল-বিল ও জলাশয়ে এত দেশি মাছ ছিল যে পলো ফেললেই বোয়াল, শোল, আইড়সহ নানা মাছ মিলত। কুটিচন্দ্রখানা থেকে আসা হামিদুল ইসলাম ও রহমত আলীর মতে, সংকটের প্রধান কারণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের অবাধ ব্যবহার। পানির প্রবাহপথে পাতা সূক্ষ্ম ফাঁসের এই জালে বড় মাছের সঙ্গে ছোট মাছ আর ডিমওয়ালা পোনাও ধরা পড়ছে।
রাবাইটারী থেকে আসা ইকবাল হোসেন ও মোজাফফর হোসেন বলেন, আগে দল বেঁধে দোলা ও ছড়ায় মাছ ধরায় প্রতিযোগিতা আর আনন্দ ছিল; এখন মাছ বড় হওয়ার আগেই চায়না জালে শেষ হয়ে যায়। দেশি মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা ও ক্ষতিকর জাল বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি চান তাঁরা।
স্থানীয় প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, শিমুলবাড়ী ফুলবাড়ীর বড় ছড়াগুলোর একটি, একসময় মাছের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেখানে আগের মতো দেশি মাছ মেলে না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম বলেন, জলাশয়ে আগের মতো পানি ও মাছ না থাকায় পলো দিয়ে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। অবৈধ জালের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
পলো বাওয়া উত্তরাঞ্চলের পুরোনো লোকজ রীতি, যার আনন্দ নির্ভর করে খোলা জলাশয়ে দেশি মাছের প্রাচুর্যের ওপর। একই দিনে ঢাকায় মৎস্যমন্ত্রী দেশি মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা ও অভয়াশ্রম তৈরির পরিকল্পনার কথা বলেছেন; ফুলবাড়ীর ছড়ার অভিজ্ঞতা দেখায়, ক্ষতিকর জাল বন্ধ না হলে সেই উদ্যোগ মাঠে পৌঁছাতে সময় লাগবে। প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন সমকালের ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।
ছবি: Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)