খুলনার কয়রা উপজেলায় আমনের ভরা মৌসুমে ডিলার ও খুচরা দোকানে চাহিদামতো ইউরিয়া সার মিলছে না। আমাদি ইউনিয়নের কৃষক তৌহিদুল সানা ১০ বিঘায় আমন করেছেন; প্রথম দফায় তাঁর ১০০ কেজি ইউরিয়া দরকার ছিল, ৪০ কেজি কেনার পর আর পাননি। উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়, চলতি মাসের বরাদ্দ পাস না হওয়া পর্যন্ত সংকট কাটবে না।
হাতিয়ারডাঙ্গা বাজারের খুচরা বিক্রেতা আশিষ রায় জানান, কৃষকের চাহিদা মেটাতে তাঁর দিনে ১০০ বস্তা ইউরিয়া লাগে, পাচ্ছেন ২০ থেকে ২৫ বস্তা; চাপ সামলাতে মাঝেমধ্যে দোকান বন্ধ রাখতে হয়। মহেশ্বরীপুরের নয়ানি এলাকার কৃষক নিরোদ মণ্ডল ২০ বিঘার জন্য সার জোগাড় করতে কয়েকজন মিলে ট্রলার ভাড়া করে অন্য উপজেলা থেকে চড়া দামে সার এনেছেন। কৃষক শাহ আলমও পাশের উপজেলা থেকে বেশি দামে কিনেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যে, কয়রায় এবার ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন হয়েছে। সেপ্টেম্বরে সাত ডিলারের অনুকূলে ইউরিয়া ৫৩০ টন, ডিএপি ৩৫০ টন, এমওপি ১১৫ টন ও টিএসপি ৬ টন বরাদ্দ হয়, যা দুই কিস্তিতে তোলা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সাত ইউনিয়নের মধ্যে আমাদি, বাগালি ও মহেশ্বরীপুরে সংকট সবচেয়ে বেশি, সেখানকার ডিলারের কাছে মজুত প্রায় নেই।
উপজেলা সার পরিবেশক সমিতির সভাপতি আবুল হাসান বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার বরাদ্দ বেশি হলেও সংকট দেখা দিয়েছে, কারণ আগে অন্য জায়গা থেকে সার কিনে ঘাটতি মেটানো যেত; কড়া নজরদারিতে কালোবাজারি বন্ধ হওয়ায় এবার সে সুযোগ নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলোক কুমার ঘোষ স্বীকার করেন, আমনের ভরা মৌসুমে পাওয়া বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম; কৃষক সরকারি দামে সার পেলেও চাহিদামতো পাচ্ছেন না। বরাদ্দ বাড়ানো ও ঘাটতি মেটাতে উপবরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। সময়মতো সার না পেলে আমনের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা।
প্রতিবেদনটি করেছেন সমকালের কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি শেখ হারুন অর রশিদ।
ছবি: Malcolm Manners / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)