চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের তিন উপজেলায় চিবিয়ে খাওয়ার আখ "রঙ বিলাস" চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। জেলায় এ বছর ১২৬ হেক্টরে এ আখের চাষ হয়েছে, যা থেকে অন্তত এক হাজার ২১৩ টন রস পাওয়া যাচ্ছে, জানিয়েছে বাসস।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যে, এর মধ্যে গুরুদাসপুরে সর্বোচ্চ ৬০ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ৫২ হেক্টর ও সিংড়ায় ১৪ হেক্টর। শুধু চলনবিলের এই তিন উপজেলাতেই রঙ বিলাস আবাদ হয়; ধারণা করা হচ্ছে, সেখানকার মাটি, পানি ও আবহাওয়া এ আখের উপযোগী।
চাষি রবিউল করিম বলেন, চারা রোপণের পর সাথি ফসল হিসেবে রসুন বা পেঁয়াজ লাগান তাঁরা; বিঘায় রসুন মেলে ২৫ থেকে ৩০ মণ, পেঁয়াজ ৬০ মণ পর্যন্ত। সাথি ফসলেই আখের খরচ উঠে যায়, ফলে আখের বিক্রির টাকার পুরোটাই মুনাফা; এভাবে বিঘায় অন্তত দুই লাখ টাকা লাভ সম্ভব বলে তাঁর হিসাব। বনপাড়া কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, অনেকে সাথি ফসল হিসেবে মুগ ডালও চাষ করেন; এ ব্লকে এবার প্রায় ১০০ একরে রঙ বিলাস আবাদ হয়েছে।
বড়াইগ্রামের মহিষভাঙা গ্রামের গোলাম রসুল ৩০ বছর ধরে রঙ বিলাস চাষ করছেন। এ বছর পাঁচ বিঘায় আখ করেছেন, এর দুই বিঘার আখ বিক্রি করেছেন সাড়ে চার লাখ টাকায়। বাইরে থেকে আসা ব্যাপারীরা খেত থেকেই কিনে নিচ্ছেন; খেতে ১০০ আখ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকায়, বাজারে খুচরা প্রতিটি ৪০ থেকে ৮০ টাকা। আগামী মৌসুমের জন্য বীজতলায় এক হাজারের বেশি চারা তৈরি করেছেন তিনি; সারা বছর জমিতে আখ থাকে, ছত্রাকের আক্রমণে বিশেষ নজর রাখতে হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, অদূর ভবিষ্যতে চিবিয়ে খাওয়ার এ আখ চলনবিলের অন্যতম অর্থকরী ফসল হয়ে উঠবে। বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান জানান, কৃষি বিভাগ চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।
প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের।
ছবি: Steve Evans / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)