যশোরে এবার আমন ধান চাষ করে খরচ তোলা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। কৃষি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, গত বছর ৩৩ শতকের এক বিঘা জমিতে আমন চাষে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। এবার তা দাঁড়াবে ১৮ থেকে ২১ হাজার টাকায়। অথচ ধান কাটার মৌসুমে মণপ্রতি দাম থাকে সাড়ে ৯০০ থেকে ১,০৫০ টাকা।
জেলা সদর, মনিরামপুর, ঝিকরগাছা ও অভয়নগর উপজেলার ১৫ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো খরচ বাড়ার একটি হিসাব পেয়েছে। সারে বিঘাপ্রতি খরচ বেড়েছে গড়ে এক হাজার টাকা। ট্রাক্টরে প্রতি চাষের ভাড়া ৩০০ থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকা হওয়ায় চার চাষে বাড়তি লাগছে ২০০ টাকা। দিনমজুরি ৪০০ থেকে বেড়ে ৫০০ টাকা; চারা রোপণ ও নিড়ানিতে বিঘায় ১০ জন শ্রমিক লাগে বলে মজুরিতে বাড়তি এক হাজার টাকা। কীটনাশকে বাড়তি গড়ে ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে বিঘাপ্রতি বাড়তি খরচ ২,৭০০ টাকা, সেচ লাগলে আরও বেশি।
মনিরামপুরের দোনার গ্রামের হাফিজুর রহমান এবার পাঁচ বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছেন। তাঁর হিসাবে, ১৯ এপ্রিল ও ২০ সেপ্টেম্বর দুই দফায় ডিজেলের দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে, সারও বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে। তাই বিঘাপ্রতি খরচ দুই থেকে তিন হাজার টাকা বাড়বে, অথচ বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি গড়ে ১,০৫০ টাকা।
সদর উপজেলার জলকর গ্রামের বর্গাচাষি অলিয়ার রহমান জানান, পরিবেশকের দোকানে হয়রানি এড়াতে খুচরা দোকান থেকে টিএসপি কিনেছেন বস্তাপ্রতি ২,২০০ টাকায়, এমওপি ১,২০০ টাকায় আর ইউরিয়া ১,৪০০ টাকায়। কৃষি বিভাগের তথ্যে সরকার-নির্ধারিত খুচরা দাম ৫০ কেজির বস্তায় টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া ১,৩৫০ টাকা এবং এমওপি ১,০০০ টাকা। "ধান চাষ করে আর বাঁচা যাচ্ছে না," বলেন তিনি। ভায়না গ্রামের তোফাজ্জেল মোল্যাও বলেন, বাজারে সারের দাম সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি।
হিসাবটা দাঁড়ায় এমন: বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ মণ ফলন ধরলে ১,০৫০ টাকা মণ দরে ১৬ মণ ধানের দাম ১৬,৮০০ টাকা, যা এ বছরের খরচের চেয়ে কম। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে এবার যশোরে আমন চাষ হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।
অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, আমনখেতে সার প্রয়োগ প্রায় শেষ, তবে উঁচু জমিতে এখনো এক-দুটি সম্পূরক সেচ লাগতে পারে এবং ডিজেলের দামে উৎপাদন খরচ বাড়বে। তাঁর ভাষায়, "ধানের দাম না বাড়লে কৃষক কষ্টে থাকবেন।"
প্রতিবেদনটি করেছেন প্রথম আলোর প্রতিবেদক মাসুদ আলম।
ছবি: George achik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)