ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে আখের দাম নিয়ে কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতা মেটাতে সোমবার বেলাগাভির সুবর্ণ সৌধে কৃষক প্রতিনিধি ও চিনিকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার (D.K. Shivakumar)। আলোচনায় সন্তোষজনক ফল না এলে ২৭ অক্টোবর রাজ্যজুড়ে বনধ বা হরতালের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কৃষকনেতারা।
বাণিজ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম চিনিমান্ডির উদ্ধৃত স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে রাজ্যের ১৫টি আখ-উৎপাদক জেলার প্রতিটি থেকে চারজন কৃষক প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, জনপ্রতিনিধি এবং ৮১টি চিনিকলের প্রতিনিধিরা ছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি উপস্থিত ছিলেন না; জানা গেছে, রাজ্য আগে বৈঠক করুক, পরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলাদা আলোচনা হোক, এটি তাঁর নিজেরই অনুরোধ ছিল।
সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে বিরোধ জমছিল; অক্টোবরে তা গড়ায় বেলাগাভি, বাগালকোট, বিজয়পুরা, কালাবুরাগি, মান্ড্য ও মহীশূরসহ প্রায় দশটি জেলায় মহাসড়ক অবরোধে। বেলাগাভির টোল প্লাজার কাছে ৪৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক এক দিনের বেশি এবং ধারওয়াড় বাইপাস ১১ ঘণ্টার বেশি অবরোধ করে রাখেন কৃষকেরা।
কৃষক সংগঠনগুলো ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমে আখের দাম চায় টনপ্রতি ৫,৫০০ রুপি; বেলাগাভির আন্দোলননেতাদের হিসাবে এর মধ্যে চিনিকল দেবে প্রায় ৪,৫০০ রুপি আর রাজ্য সরকার ১,০০০ রুপি সহায়তা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এ মৌসুমের জাতীয় ন্যূনতম দাম হিসেবে যে ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য (এফআরপি) কুইন্টালপ্রতি ৩৬৫ রুপি, অর্থাৎ টনপ্রতি ৩,৬৫০ রুপি ঠিক করেছে, দাবিটি তার চেয়ে প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া এফআরপির ওপরে রাজ্য-নির্ধারিত দাম, চিনির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য বাড়ানো, কর্ণাটকের আখের রস ও চিটাগুড় থেকে তৈরি ইথানল কেন্দ্রের কেনা এবং চিনিকলের ওজনে অন্যায্য কাটছাঁট বন্ধের দাবিও আছে।
চিনিকলগুলোর জন্য এমন দাম মাড়াই শুরুর মুখেই কাঁচামালের খরচ অনেক বাড়িয়ে দেবে। সমঝোতা না হলে আখ কেনা ধীর হয়ে খেতে দাঁড়িয়ে থাকা আখ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আছে। কর্ণাটক ভারতের প্রধান আখ-উৎপাদক রাজ্যগুলোর একটি, আর ভারত বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের অন্যতম; তাই মৌসুমের শুরুতে দীর্ঘ অচলাবস্থার দিকে রাজ্যের বাইরের চিনি ব্যবসায়ীরাও নজর রাখছেন।
ছবি: Timothy A. Gonsalves (sugarcane harvest in Mandya district, Karnataka) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)