মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে আগাম ও রবি মৌসুমের টমেটোয় ফলন বাড়লেও ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ চাষিরা। গত বছর এই সময়ে যে আগাম টমেটো কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার তা ৫০ থেকে ৬০ টাকা। চাষিদের দাবি, সীমান্ত দিয়ে টমেটো ও কাঁচামরিচ আমদানির শুল্ক শিথিল করায় দেশি বাজার পড়ে গেছে।
কমলগঞ্জের গ্রাফটিং চারার কৌশল হলো বুনো তিত বেগুনের চারার সঙ্গে উন্নত জাতের টমেটোর কাণ্ড জোড়া লাগানো; এতে গাছ সহজে হেলে পড়ে না, ভাঙে না, ফলনও বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান, তিত বেগুনের শক্ত মূল ও কাণ্ডে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। পলিথিন মালচিং দিয়ে ক্লাস্টারভিত্তিক চাষে সাফল্যের পর পদ্ধতিটি জেলার অন্য উপজেলায়ও ছড়িয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যে, জেলায় এ বছর রবি মৌসুমে এক হাজার ২০০ হেক্টরে টমেটো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা; খরিপ-১ মৌসুমে আগাম টমেটো হয়েছে ১৩০ হেক্টরে, গ্রীষ্মকালীন ১৯ হেক্টরে। মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ৬৫ লাখের বেশি গ্রাফটিং চারা, প্রতিটি নার্সারিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা। কমলগঞ্জে এবার ৬০ হেক্টরে আগাম আবাদ হয়েছে।
শুকুরউল্লাগাঁও গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুল মান্নান প্রায় ১৩ বিঘায় আগাম টমেটো করে খরচ করেছেন প্রায় ২৬ লাখ টাকা; খরচ দ্বিগুণ হলেও দাম অর্ধেক। চাষিদের অভিযোগ, দামি কীটনাশকেও রোগ দমন হচ্ছে না, পাতামোড়া ও কুঁকড়ে যাওয়া রোগে গাছ তুলে নতুন চারা লাগাতে হয়েছে, ধলাই ও গোপলা নদীর ভাঙনে বীজতলাও গেছে। জেলায় টমেটো সংরক্ষণের হিমাগার বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা নেই, ফলে ভরা মৌসুমে পানির দরে বিক্রি করতে হয়। খেতে কাজ করা চা-বাগানের নারী শ্রমিকেরা দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ও পুরুষেরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি পান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার তালুকদার জানান, প্রণোদনার জন্য ৩৮০ জন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, একটি আধুনিক হিমাগার নির্মাণ নিয়ে আলোচনা চলছে, আর ভেজাল কীটনাশক বিক্রির প্রমাণ পেলে ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদনটি দিনাজপুর টিভির কৃষি ডেস্কের।
ছবি: Judgefloro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)