উপহার মানুষের মনের দূরত্ব ঘোচায় এবং পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ায়; ইসলামে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া নবীজির (সা.) একটি সুন্নত। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের এক লেখায় কোরআন, হাদিস ও আলেমদের গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে উপহার দেওয়ার আগে মনে রাখার মতো পাঁচটি শিষ্টাচারের কথা বলা হয়েছে।
প্রথমত, নিয়ত শুদ্ধ রাখা। উপহারের উদ্দেশ্য হবে পারস্পরিক ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি; বিনিময়ে দামি কিছু পাওয়ার আশা করলে এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়। লেখায় সুরা ইনসানের ৯ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত হয়েছে, যেখানে নিঃস্বার্থ দাতারা বলেন, তাঁরা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আহার করান, প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চান না। ইমাম গাজালির ইহইয়াউ উলুমিদ্দিনের বরাতে বলা হয়েছে, জাগতিক স্বার্থ মিশলে উপহার আর উপহার থাকে না, তা ঘুষ বা লেনদেনে পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ত, হালাল উপার্জন থেকে উপহার কেনা। অবৈধ বা সন্দেহজনক টাকায় কেনা দামি উপহারের চেয়ে হালাল পয়সার সামান্য উপহার বেশি বরকতময়। সহিহ মুসলিমের হাদিস (১০১৫) উদ্ধৃত হয়েছে: আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না।
তৃতীয়ত, উপহার দিয়ে অহংকার বা খোঁটা না দেওয়া। সুরা বাকারার ২৬৪ নম্বর আয়াতে খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে দান বাতিল না করতে সতর্ক করা হয়েছে, লোক-দেখানো দাতার সঙ্গে তুলনা করে।
চতুর্থত, আন্তরিকতা ও সাধ্যের সীমা। সমাজ বা আত্মীয়স্বজনের চাপে ধারদেনা করে দামি উপহার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ইসলামে নেই। আল-আদাবুল মুফরাদের হাদিস (৫৯৪) অনুযায়ী নবীজি পরস্পর উপহার বিনিময় করতে বলেছেন, এতে ভালোবাসা বাড়ে। ইবনে হাজার আসকালানির ফাতহুল বারির বরাতে লেখায় বলা হয়েছে, বস্তুর দামের চেয়ে দাতার আন্তরিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চমত, পরিবারে সন্তানদের মধ্যে সমতা। একজনকে দামি উপহার দিয়ে অন্যজনকে বঞ্চিত করা ইসলামি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। সহিহ বুখারির হাদিসে (২৫৮৭) আছে, সাহাবি নোমান ইবনে বশিরকে তাঁর পিতা একটি দাস উপহার দিলে নবীজি জানতে চান, সব সন্তানকে এমন দিয়েছেন কি না; না শুনে তিনি বলেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ করো।
লেখাটির মূল কথা, উপহার শুধু বস্তুর আদান-প্রদান নয়; শুদ্ধ নিয়ত, হালাল উপার্জন ও আন্তরিকতায় দেওয়া ছোট উপহারও মুমিনের জন্য পুণ্যের কারণ হতে পারে।
ছবি: m01229 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0); একটি ব্যাগে মোড়ানো উপহার।
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)