ইসলাম মানুষের শারীরিক সুস্থতা ও শক্তিকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শরীর সুস্থ রাখা, কর্মক্ষমতা বাড়ানো ও নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার নিয়তে ব্যায়াম করা মূলত জায়েজ, তবে জিমে শরীরচর্চার সময় ইসলামের বিধান মেনে চলতে হবে, এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাভিশনের ধর্ম বিভাগ।
শক্তির গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কোরআনের সুরা আল-আনফালের ৬০ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করা হয়েছে: 'আর তাদের মোকাবিলার জন্য তোমরা যথাসাধ্য শক্তি প্রস্তুত করো।' রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।' (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৬৪)। তবে এখানে শক্তি বলতে শুধু শারীরিক শক্তি নয়, ঈমান, আমল ও কল্যাণকর কাজে দৃঢ়তাও বোঝানো হয়েছে।
জিম বৈধ হলেও কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। পুরুষদের সতর ঢেকে রাখতে হবে, এমন পোশাক পরতে হবে যাতে শরীরের আবশ্যকীয় অংশ প্রকাশ না পায়। জিমের কারণে ফরজ নামাজে অবহেলা করা যাবে না। নারী-পুরুষের মেলামেশা, দৃষ্টির হেফাজত ও শালীনতার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে, আর পরিবেশে কোনো অনৈসলামিক কার্যকলাপ থাকলে তা এড়িয়ে চলতে হবে।
পেশি বাড়ানোর সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে এর উপাদান ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা যাচাই করা জরুরি। শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এমন কিছু ব্যবহার করা উচিত নয়।
তাহলে জিম করা কি গুনাহ? ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শুধু জিম করা বা পেশি গঠনকে গুনাহ বলা যায় না। সুস্থ থাকা, শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভালো কাজে নিজেকে প্রস্তুত রাখার নিয়তে শরীরচর্চা বৈধ। তবে জিমে গিয়ে কোনো হারাম কাজে জড়ালে সেই কাজের বিধান আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। সব মিলিয়ে, ইসলামের সীমারেখা মেনে শরীরচর্চা জায়েজ, আর একজন মুসলিমকে জিমের পাশাপাশি নামাজ, শালীনতা ও শরীরের প্রতি দায়িত্বের বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
প্রতিবেদনটি বাংলাভিশনের ধর্ম বিভাগের।
ছবি: Tiia Monto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); চার কেজি ওজনের একটি ডাম্বেল।
সূত্র: বাংলাভিশন



মন্তব্য
(০)