নারীর বঞ্চনা ও নিপীড়ন দেখে তাঁদের প্রতি বিশেষ সহমর্মিতা অনুভব করা কি ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায় পক্ষপাত? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক কোরআন, হাদিস ও ক্লাসিক্যাল আলেমদের ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেছে, মজলুমের প্রতি সমবেদনা পাপ নয়, বরং ইনসাফের প্রতি ভালোবাসারই প্রকাশ।
ইসলামে যে পক্ষপাত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, তার পরিভাষা আসাবিয়্যাহ: সত্য-মিথ্যা না দেখে নিজের দল, বংশ বা লিঙ্গের অন্যায়কে অন্ধভাবে সমর্থন করা। সুনানে আবু দাউদের (হাদিস ৫১১৯) বর্ণনায় সাহাবি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) জানতে চেয়েছিলেন, নিজ জাতিকে ভালোবাসা আসাবিয়্যাহ কি না। মহানবী (সা.) বলেন, না; আসাবিয়্যাহ হলো অন্যায়ের ক্ষেত্রে নিজ সম্প্রদায়কে সাহায্য করা।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া মাজমুউল ফাতাওয়ায় এই পার্থক্য ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, স্বজাতির দুর্দশায় ব্যথিত হওয়া মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা এবং ইসলামে তা নিষিদ্ধ নয়; নিষেধ তখনই, যখন কেউ ন্যায় বিসর্জন দিয়ে নিজের গোষ্ঠীর পক্ষ নিয়ে অন্যের ওপর অবিচার করে।
লেখায় সুরা নিসার ৭৫ নম্বর আয়াতের উল্লেখ আছে, যেখানে অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের মুক্তির জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান রয়েছে। ইমাম আল-কুরতুবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী আয়াতে নারী ও শিশুদের আলাদা করে উল্লেখের কারণ, আত্মরক্ষায় তারা তুলনামূলক বেশি অক্ষম; তাই তাদের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী হওয়া ইমানের দাবি।
নবীজির শিক্ষাও একই দিকে ইঙ্গিত করে বলে লেখাটি জানায়। বিদায় হজের ভাষণে তিনি পুরুষদের নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করতে বলেছিলেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১২১৮), আর সফরে উটচালকদের সতর্ক করেছিলেন যেন কাচের পাত্রের মতো কোমল নারীদের কষ্ট না হয় (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১৪৯)।
ধর্ম ডেস্কের মতে, শুধু ক্ষোভ পুষে রাখা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসন্তোষ জানানো সমাধান নয়। যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা বা উত্তরাধিকারে বঞ্চিত নারীদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা, কাউন্সেলিং ও সমাজকর্মে দক্ষতা অর্জন, সুবিধাবঞ্চিত কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নারীর আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়াকে করণীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই সহমর্মিতা যেন পুরুষবিদ্বেষ বা পরিবার ভাঙার রূপ না নেয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। লেখার উপসংহারে সুরা তাওবার ৭১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী।
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)