কারও প্রতি অন্যায় করা, কষ্ট দেওয়া বা ক্ষতি করা ইসলামের আদর্শ নয়; দয়া, সংযম, ক্ষমা ও ন্যায়বিচারই এর নৈতিক ভিত্তি। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত লেখায় মাইসারা জান্নাত এভাবেই ইসলামে অহিংসার শিক্ষা তুলে ধরেছেন। শুরুতেই তিনি সহিহ বুখারির হাদিস উদ্ধৃত করেন: মুসলিম সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।
লেখকের ব্যাখ্যায়, এই শিক্ষা শুধু শারীরিক আঘাত থেকে বিরত থাকায় সীমিত নয়। গালি, অপমান, কটূক্তি, মিথ্যা অপবাদ আর অন্যের সম্মানহানিও মানুষের ওপর এক ধরনের আঘাত। তাই প্রকৃত মুসলিম নিজের আচরণে অন্যের জন্য নিরাপত্তা ও স্বস্তি তৈরি করেন।
রাগ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি, কিন্তু রাগের মুহূর্তে নিজেকে সংযত রাখাকে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে। লেখায় সহিহ বুখারির আরেকটি হাদিস আছে: শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়; শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
অহিংসার সঙ্গে ক্ষমার সম্পর্কও গভীর। সুরা শুরার ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ, কিন্তু যে ক্ষমা করে ও সংশোধন করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে। লেখকের মতে, অপমান ও নির্যাতনের মুখেও রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করেছেন এবং মানুষকে কল্যাণের পথে ডেকেছেন।
তবে অহিংসা মানে অন্যায় মেনে নেওয়া নয় বলেও লেখায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরপরাধ মানুষের ওপর জুলুম হলে প্রতিকার প্রয়োজন, কিন্তু সেই প্রতিকারও ন্যায়সংগত হতে হবে। সুরা মায়েদার ৮ নম্বর আয়াতে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন ন্যায়বিচার থেকে সরিয়ে না দেয়, সে নির্দেশ রয়েছে।
লেখকের উপসংহার, অন্যের অধিকারকে সম্মান, দুর্বলকে কষ্ট না দেওয়া, রাগে সংযম আর ভুল হলে ক্ষমা চাওয়ার চর্চা ব্যক্তি থেকে পরিবার ও সমাজে ছড়ালে হিংসা ও বিদ্বেষ কমবে, বাড়বে শান্তি ও সৌহার্দ্য।
সূত্র: দেশ রূপান্তর



মন্তব্য
(০)