ভারতের কেরালার কালিকট (কোঝিকোড়) শহরের কুট্টিচিরায় দাঁড়িয়ে আছে সাড়ে ছয় শ বছরেরও বেশি পুরোনো মিশকাল মসজিদ। মালাবার উপকূলে মুসলিম সমাজের ইতিহাস, ইসলামি ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের সাক্ষী এই মসজিদ একসময় জ্ঞানচর্চা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের কেন্দ্র ছিল বলে জানিয়েছে বার্তা২৪-এর ইসলাম ডেস্ক।
চতুর্দশ শতকের শুরুর দিকে ইয়েমেনি জাহাজমালিক নাখুদা মিশকাল মসজিদটি নির্মাণ করেন, তাঁর নামেই এর নাম। আরব সাগরের কাছে নদী ও সমুদ্রঘেঁষা কালিকট প্রাচীনকাল থেকেই আন্তর্জাতিক বন্দরনগরী। আরবদের সঙ্গে এ অঞ্চলের বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বৈবাহিক সম্পর্কের সূত্রেই মালাবারে ইসলামের বিস্তার; আরব ব্যবসায়ীদের সততা দেখে স্থানীয়রা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
মসজিদটির নির্মাণে পাথরের চেয়ে কাঠের ব্যবহার বেশি, যাতে কেরালার নিজস্ব স্থাপত্যশৈলী ফুটে উঠেছে। মেঝেতে কাঠের তক্তা, আর কাঠের কড়ি দিয়ে গড়া ছাদ। নির্মাণের সময় এটি ছিল সাত তলা, তখনকার সবচেয়ে উঁচু ভবন; এখন চার তলা অবশিষ্ট। মূল তলা ছাড়া বাকি সব তলা সেগুন কাঠের।
মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে ২৪টি বড় স্তম্ভের ওপর, ভেতরে ১৬টি আর বাইরে আটটি। এ জন্য প্রায় ১০ ফুট গভীরে গ্রানাইটের স্তম্ভ পোঁতা হয়েছিল, যা অনেকটা আজকের পাইলিং পদ্ধতির মতো।
কেরালার অধিকাংশ মুসলিম শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী, আর এ অঞ্চলে সেই ধারার শিকড় গাড়তে মিশকাল মসজিদের ভূমিকা ছিল বড়। এখানে কোরআনের তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও আরবি ব্যাকরণ পড়ানো হতো। তুহফাতুল মুজাহিদিন গ্রন্থের লেখক শায়খ জায়নুদ্দিন মাখদুম দ্বিতীয়ের চিন্তাধারারও কেন্দ্র ছিল মসজিদটি।
১৫১০ সালে আলবুকার্কের নেতৃত্বে পর্তুগিজ বাহিনী মসজিদে হামলা চালিয়ে তা পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন কালিকটের শাসক জামোরিন মুসলিম প্রজাদের পাশে দাঁড়িয়ে পর্তুগিজদের প্রতিরোধ করেন এবং পরে মসজিদ পুনর্নির্মাণে কাঠসহ নানা সহায়তা দেন, যা ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
ছবি: Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বার্তা২৪



মন্তব্য
(০)