ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক মাস ধরে চলা দাবানলের ধোঁয়াশা আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় আগুন ও বায়ুদূষণের জন্য পাম তেল ও কাঠ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে দায়ী করা যায় কি না, সে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। বন উজাড় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নুসানতারা অ্যাটলাসের তথ্যে এবার প্রায় ২০ লাখ হেক্টর জমি পুড়েছে। ব্যাংকক থেকে এএফপির খবর বাসসের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে নয়া দিগন্ত।
দেশটিতে শুষ্ক মৌসুমে দাবানল নিয়মিত ঘটনা, তবে এ বছর এল নিনোর তীব্র প্রভাবে খরা আগুনকে ভয়াবহ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর বন উজাড় এবং চাষাবাদের জন্য পিটভূমি বা পিটযুক্ত জলাভূমি শুকিয়ে ফেলায় আগে কম ঝুঁকির এলাকাও এখন আগুনের ঝুঁকিতে। বন ও পিটভূমির পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানির সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত পাম তেল ও কাঠের বাগানেও আগুন ছড়িয়েছে।
পরিবেশ সংগঠন ওয়ালহি জানিয়েছে, নাসার অগ্নিকাণ্ডের তথ্য দিয়ে তৈরি তাদের মানচিত্রে উচ্চ নির্ভরযোগ্যতায় শনাক্ত হটস্পটের প্রায় ৫০ শতাংশ বিভিন্ন কোম্পানির 'কনসেশন' বা মেয়াদি বরাদ্দ জমির ভেতরে। চলতি মাসের প্রতিবেদনে তারা হটস্পটের সংখ্যা অনুযায়ী কাঠ ও পাম তেলের ৪০টি বরাদ্দ জমির তালিকা দিয়েছে। সংগঠনটির প্রচারকর্মী উমি মারুফাহ বলেন, 'এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা। এসব কোম্পানির কর্মকাণ্ড ও চর্চার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে।'
সিঙ্গাপুর আন্তঃসীমান্ত ধোঁয়াশা দূষণ আইনে ১০টি কোম্পানিকে 'প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নোটিশ' দিয়েছে; জমিতে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের কর্মপরিকল্পনা জমা না দিলে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশটির জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী কে শানমুগাম বলেছেন, এটি নিছক প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, মুনাফার জন্য কোম্পানিগুলোর কর্মকাণ্ডই সমস্যাটি তৈরি করেছে।
অভিযুক্ত কয়েকটি কোম্পানি দায় অস্বীকার করেছে। সিঙ্গাপুরে তালিকাভুক্ত পাম তেল প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট রিসোর্সেস বলেছে, তাদের সীমানার বাইরে শুরু হওয়া আগুন পরে তাদের এলাকায় ছড়িয়েছে। এশিয়া পাল্প অ্যান্ড পেপারের দাবি, সরবরাহকারীর জমিতে আগুন লাগা মানেই পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া নয়। নুসানতারা অ্যাটলাসের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড গাভো বলেন, স্যাটেলাইট ছবিতে কখনো দেখা যায় আগুন বরাদ্দ জমির ভেতরেই শুরু হয়েছে, কখনো বাইরে থেকে ঢুকেছে, তবে তা পরিকল্পিত নাকি দুর্ঘটনা, বলা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে অবৈধভাবে চাষের জমি তৈরিতে আগুন ব্যবহার হয়েছে, বড় কোম্পানির পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও তা করেছেন। কিছু এলাকায় ক্ষুদ্র কৃষকদের জমি পরিষ্কারে আগুনের অনুমতি থাকলেও এ বছর সরকার সেই চর্চার বিরুদ্ধেও কঠোর হয়েছে। পরিবেশ আইন সহায়তা সংস্থা ক্লায়েন্টআর্থের আইনজীবী আজাম হাওয়ারি বলেন, আগুন দুর্ঘটনাবশত লাগলে বা বাইরে থেকে ছড়ালেও কোম্পানির দেওয়ানি দায় থাকতে পারে, আর পিটভূমি শুকানোর মতো কাজের জন্যও তারা দায়ী হতে পারে।
ছবি: ২০১৫ সালের ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের স্যাটেলাইট চিত্র, Jeff Schmaltz, MODIS Land Rapid Response Team, NASA GSFC / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: নয়া দিগন্ত





মন্তব্য
(০)