এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের শস্যবাজার বড় ঝুঁকিতে আছে বলে ২৫ সেপ্টেম্বরের এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক শস্য পরিষদের (ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল, আইজিসি) বিশ্লেষকেরা। তাঁদের হিসাবে এ বছর খুব শক্তিশালী প্রভাবের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ, আর চূড়ান্ত প্রভাব দেখা যাবে নভেম্বরে। আইজিসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ নাথান কেম্প বলেন, এল নিনো ফসলহানির ঝুঁকি বাড়ায়, তবে সব মহাদেশে একইভাবে প্রভাব ফেলে না।
আইজিসি বিশ্বে গমের উৎপাদন ধরেছে ৮১ কোটি ৯০ লাখ টন, আগের বছরের চেয়ে ৩ শতাংশ কম। প্রধান আট উৎপাদক দেশের সাতটিতেই শুষ্ক আবহাওয়া এবং বেশি লাভজনক তেলবীজের দিকে ফসলচক্র সরে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে; তবে বছরশেষের মজুত আগের হিসাবের চেয়ে ৩০ লাখ টন বাড়িয়ে ২৭ কোটি ৮০ লাখ টন ধরা হয়েছে। ভুট্টার উৎপাদন ৩ শতাংশ কমে ১৩০ কোটি টন হতে পারে, মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় কম ফলনের কারণে; ভুট্টার জের মজুত ৪০ লাখ টন কমিয়ে ২৮ কোটি ৯০ লাখ টন ধরা হয়েছে, যা এক বছর আগের চেয়ে ২ কোটি টন কম। খরায় ইউরোপেও ফলন কমেছে, কোথাও কোথাও ফসল ফেলে দিতে হয়েছে।
সরবরাহ কমলে সাধারণত শীতের দিকে দাম বাড়ার কথা, কিন্তু প্রতিবেদনের পরও শিকাগোর গমের ফিউচার দাম পড়তেই থাকে, কারণ ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাজারকে প্রভাবিত করছে। ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহে শিকাগোর নিকট মেয়াদের গম টনপ্রতি ১৯৯.৩৪ পাউন্ডের সমমান থেকে নেমে ১৯০.৭৯ পাউন্ডে দাঁড়ায়, যা ৩ সেপ্টেম্বরের সর্বোচ্চ দামের চেয়ে ২৯.৫৪ পাউন্ড কম। লন্ডনের গমের ফিউচার ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহে টনপ্রতি ২১১.২৫ পাউন্ড থেকে নেমে ২০৩.৫০ পাউন্ড হয়, আর যুক্তরাজ্যে খামার পর্যায়ে পশুখাদ্যের গমের দাম ২০৪ পাউন্ড থেকে নেমে ১৯৮.৫০ পাউন্ড হয়।
অথচ এএইচডিবির ২০২৬ সালের চূড়ান্ত ফসল অনুমান বলছে, গ্রীষ্মের খরায় যুক্তরাজ্যে শীতকালীন গমের ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.৯ টনে নেমেছে, যা পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। বসন্তকালীন বার্লির গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৪.৮ টন, গড়ের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম; ওটের ৪.৬ টন, ১৪ শতাংশ কম। মল্টিংয়ের জন্য রাখা অনেক বার্লি পশুখাদ্যের মানে নামিয়ে আনতে হয়েছে। এএইচডিবির প্রধান বিশ্লেষক হেলেন প্ল্যান্ট বলেন, গড় ফলন পুরো চিত্র দেয় না, খামারভেদে বড় পার্থক্য আছে।
তেলবীজের সরবরাহ অবশ্য ভালো: আইজিসির হিসাবে এ মৌসুমে বিশ্বে সয়াবিন উৎপাদন রেকর্ড ৪৪ কোটি টন, যদিও চাহিদা বাড়ায় বছরশেষের মজুত ২০ লাখ টন কমিয়ে ৭ কোটি ৩০ লাখ টন ধরা হয়েছে। এএইচডিবির হিসাবে যুক্তরাজ্যে সরিষাজাতীয় তেলবীজ রেপসিডের ফলন হেক্টরপ্রতি ৪ টন, গড়ের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি; ৩০ সেপ্টেম্বর খামার পর্যায়ে এর দাম ছিল টনপ্রতি ৪৪৯.৪০ পাউন্ড।
ছবি: গ্রাহাম রবসন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)