জলবায়ু পরিবর্তন, পোকা ও রোগের বিরুদ্ধে বনকে টেকসই করতে বেশি প্রজাতির গাছ লাগানোর কথাই সাধারণত বলা হয়। কিন্তু স্কটল্যান্ডের জেমস হাটন ইনস্টিটিউটের নেতৃত্বে নতুন এক গবেষণা বলছে, মিশ্রণে কতগুলো প্রজাতি আছে তার চেয়ে কোন প্রজাতি আছে, সেটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব বার্ডস (আরএসপিবি), রয়্যাল বোটানিক গার্ডেন এডিনবার্গ ও একজন স্বাধীন পরামর্শকের সঙ্গে মিলে গবেষকেরা যুক্তরাজ্যের চারটি সাধারণ বনগাছ নিয়ে কাজ করেন: অ্যাশ, ওক, স্কটস পাইন ও সিটকা স্প্রুস। আগের গবেষণার তথ্য ব্যবহার করে তাঁরা প্রতিটি গাছের সঙ্গে যুক্ত প্রজাতিগুলোর তালিকা করেন এবং দেখেন, সেগুলো আশ্রয় বা খাবারের জন্য অন্য গাছও ব্যবহার করতে পারে কি না।
এরপর তাঁরা দুটি কাল্পনিক বনের মডেল তৈরি করেন। সেরা ক্ষেত্রে প্রতিটি নতুন গাছ সবচেয়ে বেশি বাড়তি প্রজাতিকে আশ্রয় দেয়, আর সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে প্রায় কাউকেই নয়। সেরা মিশ্রণে কোনো আশ্রয়দাতা গাছ কমে গেলেও একক গাছের ওপর পুরো নির্ভরশীল নয় এমন প্রজাতির ৭৭ থেকে ৯৪ শতাংশ টিকে থাকতে পারে। খারাপ মিশ্রণে এই হার নেমে আসে ১ থেকে ১১ শতাংশে।
গবেষণার প্রধান লেখক, বনভূমি পরিবেশবিদ রুথ মিচেল বলেন, "আমরা সাধারণত ধরে নিই, গাছের বৈচিত্র্য থাকলেই জীববৈচিত্র্য টিকে থাকবে। কিন্তু এই গবেষণা দেখাচ্ছে, তা সবসময় সত্য নয়।"
আরএসপিবির জ্যেষ্ঠ সংরক্ষণ বিজ্ঞানী পল বেলামি বলেন, রোগ, খরা বা ঝড়ে নষ্ট হওয়া গাছের জায়গায় কী লাগানো হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বন ব্যবস্থাপকদের বুঝতে হবে তাঁদের বাছাই বনের প্রাণবৈচিত্র্যে কী প্রভাব ফেলে। গবেষণাটি কোয়ার্টারলি জার্নাল অব ফরেস্ট্রিতে প্রকাশিত হয়েছে, বৃক্ষবৈচিত্র্য বাড়িয়ে বনকে টেকসই করার প্রকল্প ডাইভার্সিট্রির অংশ হিসেবে।
অ্যাশ গাছের রোগ বা ঝড়ের ক্ষতির পর যাঁরা নতুন করে গাছ লাগাচ্ছেন, তাঁদের জন্য শিক্ষাটি সরাসরি: শুধু গাছের সংখ্যা নয়, কোন গাছ লাগানো হচ্ছে তা-ই ঠিক করে পরের বিপর্যয়ে বনের কতটা প্রাণ টিকে থাকবে।
ছবি: Jonathan Kington / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)