যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্মের সংক্রমণ চলতে থাকায়, মানুষের জন্য অনুমোদিত একটি ওষুধ দিয়ে এর লার্ভা মারা যায় কি না তা পরীক্ষায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৯ ডলার বিনিয়োগ করছে ফাউন্ডেশন ফর ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার রিসার্চ (এফএফএআর) ও নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়। দ্রুত ফলাফলের জন্য এফএফএআরের ‘আরওএআর’ অনুদান থেকে এ অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
ওষুধটির নাম নিটিসিনোন (nitisinone); এটি মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদিত এবং মানুষের জন্য নিরাপদ বলে প্রতিষ্ঠিত। গত পাঁচ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, এটি রক্তচোষা অন্য পতঙ্গও মারে। নটর ডেমের জীববিজ্ঞানের সহযোগী গবেষণা অধ্যাপক ড. লি হেইন্স ও অধ্যাপক আলভারো আকোস্তা-সেরানোর নেতৃত্বে দলটি ঘনিষ্ঠ প্রজাতি ‘সেকেন্ডারি স্ক্রুওয়ার্ম’কে মডেল হিসেবে ব্যবহার করে লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মাছির ওপর ওষুধটির বিষক্রিয়া যাচাই করছে, বিশেষ করে লার্ভা এবং আক্রান্ত ক্ষতস্থানে এর ব্যবহারের সম্ভাবনা। মাছির বৃদ্ধি, প্রজনন ও বেঁচে থাকার ওপর প্রভাবও মাপা হবে, যাতে পরে মূল স্ক্রুওয়ার্মের ওপর পরীক্ষার মাত্রা ঠিক করা যায়।
এফএফএআর বলছে, স্ক্রুওয়ার্মের পুনরাবির্ভাব যুক্তরাষ্ট্রের গবাদিপশু, বন্যপ্রাণী ও কৃষি বাণিজ্যের জন্য হুমকি, অথচ অনুমোদিত দমন উপায় খুব কম; দক্ষিণ আমেরিকায় কিছু প্রচলিত চিকিৎসার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার খবর বিষয়টিকে আরও জরুরি করেছে।
এফএফএআরের বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি পরিচালক ড. জেসমিন ব্রুনো বলেন, মানুষের জন্য আগেই অনুমোদিত একটি ওষুধ যাচাই করায় বিদ্যমান নিরাপত্তা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পশুচিকিৎসায় এর ব্যবহারের পথ দ্রুত হতে পারে।
খামারে বেড়ে ওঠা ড. হেইন্স জানান, প্রতি গ্রীষ্মে রক্তচোষা পতঙ্গ কীভাবে পশু—এবং খামারিকেও—ক্লান্ত করে দেয়, তা তিনি দেখেছেন। এই অনুদানে একটি প্রাথমিক গবেষণা হবে, যা পদ্ধতি ঠিক করে ওষুধটির বিষক্রিয়া নির্ধারণ করবে এবং খামারি ও পশুচিকিৎসকদের জন্য নতুন হাতিয়ারের ভিত্তি তৈরি করবে।
ছবি: John Kucharski / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: The Fence Post





মন্তব্য
(০)