সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩২°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৫৩%বাতাস ৬ কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৬ মিমি

লেবুখালীতে বারির উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র উপকূলের জন্য ফল ও সবজির জাত উদ্ভাবন করছে

পটুয়াখালীর লেবুখালীতে বারির আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে ২০২৬ সালের জুনে সিম, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, শসা ও ঢেঁড়সের নতুন জাত নিয়ে গবেষণা চলছিল; কেন্দ্রের উদ্ভাবিত বারি বেগুন-১২ ও বারি তরমুজ-১ ও ২ কৃষকের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছিল।

লেবুখালীতে বারির উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র উপকূলের জন্য ফল ও সবজির জাত উদ্ভাবন করছে
শাকসবজি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র দক্ষিণ উপকূলের জলবায়ু ও মাটির উপযোগী ফল ও সবজির নতুন জাত উদ্ভাবন, মানসম্পন্ন বীজ ও চারা উৎপাদন এবং কৃষক প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরির কাজ করছিল বলে ২০২৬ সালের ২৮ জুন জাগো নিউজের পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধির প্রতিবেদনে জানানো হয়। কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পত্রিকাটিকে বলেন, কেন্দ্রটির কাজ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

প্রতিবেদনের সময় কেন্দ্রটিতে সিম, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, শসা ও ঢেঁড়সের নতুন জাত উদ্ভাবনের গবেষণা চলছিল। কেন্দ্রের গবেষণায় উদ্ভাবিত বারি বেগুন-১২, বারি তরমুজ-১ ও বারি তরমুজ-২ ততদিনে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এ ছাড়া সারা বছর চাষের উপযোগী 'বারি হাইব্রিড মিষ্টিকুমড়া-৪' নামে একটি নতুন জাত নিবন্ধনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

দুমকিতে বারির উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র


কেন্দ্রটি দেশের এমন এক অঞ্চলে, যেখানকার কৃষি সমুদ্রের প্রভাবে গড়ে ওঠে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে কেন্দ্রের কাজ হিসেবে বলা হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির উপযোগী ফল ও সবজির নতুন জাত উদ্ভাবন, মানসম্পন্ন চারা উৎপাদন, কৃষক প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরি; আর এর গবেষণা থেকে আসা তিনটি জাতের নাম দেওয়া হয়েছে: একটি বেগুন, বারি বেগুন-১২, এবং দুটি তরমুজ, বারি তরমুজ-১ ও বারি তরমুজ-২। কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লক্ষ্যটি বর্ণনা করেছেন উপকূলের কৃষকদের জন্য জলবায়ু সহনশীল, অধিক ফলনশীল ও লাভজনক জাত হিসেবে।

বারির ওয়েবসাইটে ফসল গবেষণা কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রের যে তালিকা ২০২৬ সালের ৪ মে সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়, তাতে দুমকির লেবুখালীর আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের নাম রয়েছে। একই তালিকায় আছে নরসিংদীর শিবপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, সিলেটের জৈন্তাপুরের সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র এবং রাজশাহীর বিনোদপুরের ফল গবেষণা কেন্দ্র।

বারি নিজে ধান, পাট, আখ ও চা ছাড়া অন্য সব ফসলের গবেষণার দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশের প্রধান প্রতিষ্ঠান; ওই চার ফসলের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট আছে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এর সূচনা ১৯০৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত 'এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি, বেঙ্গল' থেকে; ১৯৭৬ সালে কৃষি অধিদপ্তর (গবেষণা ও শিক্ষা) বারিতে রূপান্তরিত হয়, পরে প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় স্টেশন গাজীপুরের জয়দেবপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়। 'এক নজরে বারি' পুস্তিকায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দানাজাতীয় শস্য, কন্দাল ফসল, ডাল, তেলবীজ, সবজি, ফল ও ফুলসহ প্রায় ২১২টি ফসল নিয়ে তারা গবেষণা করে; এ কাজ চলে দেশের বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা আঞ্চলিক কেন্দ্র ও উপকেন্দ্র, ছয়টি বিশেষায়িত ফসল গবেষণা কেন্দ্র এবং ১৬টি গবেষণা বিভাগের মাধ্যমে।

লেবুখালী দুমকি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের একটি। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে দুমকি পটুয়াখালী জেলার সবচেয়ে ছোট উপজেলা, আয়তন ৯২.৪১ বর্গকিলোমিটার; উপজেলাটি গঠিত হয় ২০০০ সালে। এর প্রধান নদী লোহালিয়া, রাজাগঞ্জ ও বুড়িশ্বর; প্রধান ফসল ধান, আলু, ডাল ও মরিচ; প্রধান ফল কলা, কাঁঠাল, তরমুজ ও পেঁপে। পটুয়াখালী জেলার আয়তন ৩ হাজার ২২১.৩১ বর্গকিলোমিটার; এর উত্তরে বরিশাল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ভোলা ও পশ্চিমে বরগুনা। জেলার মাটি মেঘনা অববাহিকার পলিমাটি এবং কয়েকটি ছোট চর নিয়ে গঠিত; নদীর মধ্যে রয়েছে আন্ধারমানিক, আগুনমুখা, তেঁতুলিয়া, গলাচিপা ও রাজগঞ্জ।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পায়রা সেতু; নদীর উত্তর তীরে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা। ছবি: Jaad io / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পায়রা সেতু; নদীর উত্তর তীরে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা। ছবি: Jaad io / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সবজির নতুন জাত ও প্রজনন বীজ


গবেষণাকেন্দ্র সূত্র জাগো নিউজকে জানায়, উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কেন্দ্রটি নিয়মিত বিভিন্ন সবজি ফসলের প্রজনন বীজ উৎপাদন করে। প্রতিবেদনের মৌসুমে যেসব জাতের প্রজনন বীজ উৎপাদন করা হয়:

  • বারি বেগুন-১২
  • বারি তরমুজ-১ ও বারি তরমুজ-২
  • বারি লাউ-৩ ও বারি লাউ-৪
  • বারি লালশাক-১
  • বারি ডাটাশাক-১
  • বারি হাইব্রিড করলা-২
  • বারি হাইব্রিড মিষ্টিকুমড়া-২

২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নিবন্ধিত বারির জাতের তালিকা অনুযায়ী বারি বেগুন-১২ নিবন্ধিত হয় ২০২০ সালের ২৬ জুন; এর ফলন রবি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৩০ থেকে ৩৫ টন। একই তালিকায় আছে বারি হাইব্রিড মিষ্টিকুমড়া-২, যা ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ নিবন্ধিত হয় এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ৪০ থেকে ৫০ টন; আর বারি হাইব্রিড করলা-২, একই দিনে নিবন্ধিত, হেক্টরপ্রতি ফলন ৩৫ থেকে ৩৮ টন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান জাগো নিউজকে বলেন, বারি বেগুন-১২ একটি ব্যতিক্রমধর্মী জাত, যা দেখতে অনেকটা লাউয়ের মতো এবং প্রতিটি বেগুনের ওজন এক থেকে দুই কেজি পর্যন্ত হয়।

বেগুন (Solanum melongena) সোলানেসি পরিবারের উদ্ভিদ এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজিগুলোর একটি। বাংলাপিডিয়া জানায়, সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বরে বেগুনের চারা লাগানো হয়, ৯০ থেকে ১০০ দিনে ফসল তোলার উপযোগী হয়। ঢেঁড়স (Abelmoschus esculentus) মালভেসি পরিবারের উদ্ভিদ; গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে দেশের প্রায় সব এলাকায় এর চাষ হয়, আর এর সবুজ ফল ১৪ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা, পাঁচটি শিরাযুক্ত। লাউ (Lagenaria siceraria), করলা (Momordica charantia) ও তরমুজ (Citrullus lanatus) কিউকারবিটেসি বা কুমড়া পরিবারের লতানো উদ্ভিদ; আর লালশাক ভোজ্য অ্যামারান্থ Amaranthus tricolor প্রজাতির একটি রূপ, যার আদি নিবাস দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং যার পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়।

এ ধরনের বীজের মান তদারকির জন্য সরকারি সংস্থা আছে। বাংলাপিডিয়া জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৭৪ সালে গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি নিয়ন্ত্রিত ফসলের প্রজনন ও ভিত্তি বীজ প্রত্যয়ন করে, নোটিফায়েড ফসলের জাত মূল্যায়ন ও ছাড়করণের সমন্বয় করে, জাতীয় বীজ বোর্ডকে পরামর্শ দেয় এবং সারা দেশ থেকে মানঘোষিত (ট্রুথফুলি লেবেলড) বীজের নমুনা সংগ্রহ করে ঘোষিত মান যাচাই করে। এর প্রত্যয়ন চার ধাপে হয়: বীজের উৎস যাচাই, মাঠে বীজ ফসল পরিদর্শন, বীজের লট পরিদর্শন ও পরীক্ষা, এবং ট্যাগ, লেবেল ও সিল দিয়ে বীজের মান চিহ্নিত করা।

মৌসুমের বাইরেও লাল ও হলুদ তরমুজ


বারির জাতের তালিকা অনুযায়ী বারি তরমুজ-১ ও বারি তরমুজ-২ দুটিই ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত হয়; হেক্টরপ্রতি ফলন যথাক্রমে ৪০ ও ৩০ টন। বীজ অনুমোদনের পথে থাকার সময় ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট দ্য ডেইলি স্টার জানায়, লেবুখালীর বারি গবেষকেরা দেশে প্রথমবারের মতো লাল ও হলুদ দুই রঙের এবং সারা বছর চাষযোগ্য তরমুজের বীজ উদ্ভাবন করেছেন। গবেষণা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে, ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় ৪০ টন, আর তখন তরমুজ কেবল প্রচলিত মৌসুমেই বাজারে আসত। কেন্দ্রের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার তরমুজ বীজ আমদানি করে। লাল ও হলুদ তরমুজের পরীক্ষামূলক প্লট ছিল তুলনামূলক উঁচু জমিতে, পোকা থেকে রক্ষায় ফল পলিথিনে মুড়ে রাখা হতো; বীজ অনুমোদনের জন্য বীজ বোর্ডে যাওয়ার কথা ছিল, অনুমোদনের পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করবে।

এক বছর পর ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, পটুয়াখালীতে মৌসুম ছাড়া বারির এই দুই জাতের তরমুজ চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। একটি জাতের রং লাল, অন্যটির হলুদ; ২০২০ সালে জাত দুটি কৃষক পর্যায়ে ছাড়া হয়, কৃষকেরা নিজেরাই বীজ সংরক্ষণ করতে পারেন, আর একই জমিতে বছরে তিনবার চাষ করা যায়। চাষিরা মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করেন: মাটির উঁচু বেড বিশেষ ধরনের পলিথিনে ঢেকে দেওয়া হয়, যাতে বৃষ্টিতে গাছের গোড়া না পচে; পলিথিনে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে চারা বের করা হয়, আর বাঁশ ও জালের মাচায় লতা তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ৮০ দিনে ফল আসে, ফল যাতে ঝরে না পড়ে সে জন্য প্রতিটি ফল জালে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ২০২১ সালের জুনে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ২০ একর জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষ হয়, আর কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, সে বছরের জুনে কেন্দ্র থেকে ১২ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছিল।

উপকূলে তরমুজের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়েও বারি গবেষণা করেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে উদ্ভাবিত জলবায়ু সহনশীল জাত ও প্রযুক্তির বিবরণীতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সুষম সার ব্যবহার না করায় সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় তরমুজের গড় ফলন অনেক কম, হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৫ টন; সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় সুপারিশকৃত অজৈব সারের সঙ্গে গোবর সার ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা রক্ষার পাশাপাশি হেক্টরপ্রতি প্রায় ৪৪ টন ফলন পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে পটুয়াখালীর সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার জন্য দেওয়া তরমুজ উৎপাদনের সার সুপারিশেও একই রকম প্রায় ৪৪ টন ফলনের কথা বলা হয়েছে। মাটি ও মৌসুমভেদে মাত্রা আলাদা হয়, তাই সারের মাত্রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তরমুজ (Citrullus lanatus) কুমড়া পরিবারের মাটিতে ছড়িয়ে পড়া লতানো উদ্ভিদ; এর বড় ফলকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে 'পেপো' বলা হয়, অর্থাৎ শক্ত খোসাযুক্ত ও ভেতরে ভাগহীন এক ধরনের বেরি। এর মিষ্টি, রসালো শাঁস সাধারণত গাঢ় লাল থেকে গোলাপি হয়, তবে কিছু জাতের শাঁস হলুদ, যেমন লেবুখালীর দুই জাতের একটির।

কাটা হলুদ শাঁসের তরমুজ; প্রসঙ্গ বোঝাতে দেওয়া ছবি, পটুয়াখালীর নয়। ছবি: JFVelasquez Floro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
কাটা হলুদ শাঁসের তরমুজ; প্রসঙ্গ বোঝাতে দেওয়া ছবি, পটুয়াখালীর নয়। ছবি: JFVelasquez Floro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

মাটির লবণ: উপকূলীয় কৃষির প্রধান বাধা


লবণসহিষ্ণু ও জলবায়ু সহনশীল জাতের ওপর কেন্দ্রের জোর যে সমস্যার জবাব, তা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) ২০১০ সালে বাংলাদেশের মাটির লবণাক্ততা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মেপেছে। দেশের ২৮ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর উপকূলীয় ও উপকূলের বাইরের ভূমির মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর আবাদি জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত, যা ১৯৭৩ সালে ছিল ৮ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর; প্রায় চার দশকে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর (২৬.৭ শতাংশ) নতুন জমি লবণাক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের আবাদযোগ্য জমির ৩০ শতাংশের বেশি উপকূলীয় এলাকায়, আর মাটির লবণাক্ততা, ভালো মানের সেচের পানির অভাব ও দেরিতে পানি নামার কারণে এর বড় অংশ শুষ্ক মৌসুমে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত, পতিত পড়ে থাকে।

এসআরডিআইয়ের ২০০৯ সালের জরিপে প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার, ২ লাখ ৭৪ হাজার, ১ লাখ ৮৯ হাজার, ১ লাখ ৬১ হাজার ও ১ লাখ ১ হাজার হেক্টর জমি যথাক্রমে অতি সামান্য, সামান্য, মাঝারি, তীব্র ও অতি তীব্র লবণাক্ততার শ্রেণিতে পড়ে, আর যেসব জেলায় কিছু নতুন জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে পটুয়াখালীর নাম আছে। উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১৮ শতাংশ জুড়ে থাকা মোহনাজ প্লাবনভূমির বেশির ভাগ বৃহত্তর নোয়াখালী, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে। বেশির ভাগ সবজি লবণের প্রতি খুব সংবেদনশীল; প্রতিবেদন অনুযায়ী লবণাক্ততা প্রতি একক বাড়লে এদের ফলন ৬ থেকে ১৯ শতাংশ কমে। প্রতিবেদনের সারণিতে দেখা যায়, মাটির লবণাক্ততা ১.০ ডেসিসিমেন্স/মিটারে পৌঁছালে সিমের ফলন কমতে শুরু করে এবং এরপর প্রতি একক বৃদ্ধিতে ১৯ শতাংশ কমে; শসার ক্ষেত্রে এ সীমা ২.৫ ডেসিসিমেন্স/মিটার, প্রতি এককে ক্ষতি ১৩ শতাংশ; আর স্কোয়াশে ৩.২ ডেসিসিমেন্স/মিটার, প্রতি এককে ক্ষতি ১৬ শতাংশ।

লেবুখালী এলাকায় অবশ্য পানির সমস্যা তুলনামূলক কম। নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঝালকাঠির যে অল্প কয়েকটি নদী ও খাল শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত লবণাক্ত হয় না, এসআরডিআই সেগুলোর তালিকায় লেবুখালী নদীর নাম রেখেছে; পটুয়াখালী জেলার তেঁতুলিয়া, পটুয়াখালী ও পাণ্ডব নদীকে সামান্য লবণাক্ত পেয়েছে, আর পটুয়াখালী ও বরগুনার উত্তরাংশের বেশির ভাগ নদী ও খালকে সেচের জন্য উপযোগী বা মোটামুটি উপযোগী বলে বিবেচনা করেছে।

লবণাক্ত ও জোয়ারপ্লাবিত জমির জন্য বারির পদ্ধতি


নতুন জাতের পাশাপাশি এ ধরনের জমির জন্য বারি মাঠপর্যায়ের কিছু পদ্ধতিও উদ্ভাবন করেছে, যা কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর ভিত্তি। প্রতিষ্ঠানটির নথিতে যেসব পদ্ধতির কথা আছে:

  • গাছের গোড়ায় ধানের খড় বা করাতের গুঁড়া দিয়ে মালচিং করে মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি রোধ, যাতে তরমুজ ও মিষ্টিকুমড়ার ফলন ৩২ থেকে ৩৪ শতাংশ, করলার ৪০ থেকে ৪৬ শতাংশ এবং ঢেঁড়সের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
  • শেষ চাষের পর মাটির ৫০ সেন্টিমিটার গভীরে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার পুরু খড়ের স্তর বিছিয়ে দেওয়া, যাতে কৈশিক প্রক্রিয়ায় লবণের ঊর্ধ্বমুখী চলাচল কমে ওপরের মাটির লবণাক্ততার তীব্রতা ১৪ থেকে ৩৭ শতাংশ কমে, আর মার্চ থেকে মে মাসের শুষ্ক সময়ে, যখন মাটির আর্দ্রতা গাছ নেতিয়ে পড়ার সীমার (উইল্টিং পয়েন্ট) নিচে নামে, তখন মাটির পানি ধারণক্ষমতা ১৬ থেকে ৫৬ শতাংশ বাড়ে; ১২ থেকে ১৫ ডেসিসিমেন্স/মিটারের তীব্র লবণাক্ত মাটিতেও মিষ্টিকুমড়াজাতীয় সবজির ১০ থেকে ১২ টন ফলন পাওয়া সম্ভব। বারি এ পদ্ধতির এলাকা হিসেবে সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও নোয়াখালীর নাম দিয়েছে।
  • মালচসহ ড্রিপ সেচ ও ফার্টিগেশন, যাতে বারির হিসাবে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পটাশ, ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ইউরিয়া ও ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ সেচের পানি সাশ্রয় হয়, ফলন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি হয় এবং গাছের শিকড়ের চারপাশে লবণাক্ততা কমে।
  • দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োস্যালাইন অ্যাগ্রিকালচারের সঙ্গে পরীক্ষা করা উঁচু বেড, মালচ ও ড্রিপ সেচের সমন্বয়, যাতে মাটির লবণাক্ততা ১০ থেকে ১২ ডেসিসিমেন্স/মিটার থেকে নেমে ৪.৫ থেকে ৫.৫ ডেসিসিমেন্স/মিটারে আসে এবং প্রচলিত সেচের চেয়ে ফলন বেশি হয়।
  • আমন ধানের পর উপকূলের মাঝারি উঁচু জমিতে তিন-চারটি চাষ দিয়ে তৈরি উঁচু বেড, যেখানে কুমড়াজাতীয় সবজি চাষ করলে লবণাক্ততা, আকস্মিক বন্যা বা জোয়ারের পানি এবং আগাম বৃষ্টির হাত থেকে ফসল রক্ষা করা যায় বলে বারির সরেজমিন গবেষণা বিভাগের তিন বছরের গবেষণায় দেখা গেছে।

বারি জানায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল বিভিন্ন ফসলের ২৭টি উচ্চফলনশীল জাত এবং ২৫টি লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। প্রকল্পের নথিতে দুমকিতে কাজের কথাও আছে: ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা ইন্টিগ্রেটেড অ্যাগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রজেক্টের (বারি অংশ) এলাকায় পটুয়াখালী সদর ও দুমকি ছিল, আর ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদের উদ্যানতাত্ত্বিক ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ এবং চর এলাকায় উদ্যান ও মাঠ ফসলের প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্পের এলাকার তালিকায় দুমকির নাম ছিল।

ফলদ গাছ ও মানসম্পন্ন চারা


সবজি গবেষণার পাশাপাশি ফলজ ফসল নিয়েও কেন্দ্রটি ব্যাপক কাজ করছিল। আম, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, কলা, বরই (কুল) ও মাল্টার বিভিন্ন জাত নিয়ে গবেষণা ও প্রদর্শনী চলছিল, আর কৃষকদের মানসম্পন্ন চারা দিতে বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা উৎপাদন করা হচ্ছিল। প্রতিবেদনের বছরে কেন্দ্রে যে আমের চারা উৎপাদন হয়:

  • বারি আম-৩: ১ হাজার ২৫০টি চারা
  • বারি আম-৪: ১ হাজার ৪০০টি চারা
  • বারি আম-৮: ৪০০টি চারা
  • বারি আম-১১: ১ হাজার চারা

এ ছাড়া বারি ড্রাগন, বারি পেয়ারা, বারি কুল, মাল্টা, নারকেল, লিচু ও কলাসহ বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা উৎপাদন ও বিতরণ চলছিল।

ফলের ক্ষেত্রে কলমের চারার গুরুত্ব অনেক। বাংলাপিডিয়ার আম-বিষয়ক ভুক্তি জানায়, মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে আমগাছ সাধারণত কলমের মাধ্যমে অঙ্গজ পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা হয়; কলমের গাছে লাগানোর চতুর্থ বছরের দিকে প্রথম ফল আসে এবং প্রায় ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন ভালো থাকে, আর আঁটির চারায় ফল আসতে আরও কয়েক বছর বেশি লাগে। অন্তত এক মিটার গভীর প্রায় যেকোনো মাটিতে আম হয়, মাটির উপযুক্ত পিএইচ ৫.৫ থেকে ৭.৫; জানুয়ারি থেকে মার্চে গাছে মুকুল আসার সময় কুয়াশা, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া ফল ধারণে ক্ষতি করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারা দেশে তাদের বাগান, হর্টিকালচার বেস ও নার্সারি থেকে উন্নত জাতের আমের কলম উৎপাদন ও বিতরণ করে।

পেয়ারার (Psidium guajava) আদি নিবাস গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আমেরিকা; ২৩ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এটি ভালো জন্মায়, যদিও পূর্ণবয়স্ক গাছ ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত সহ্য করতে পারে। বাংলাপিডিয়া জানায়, গুটিকলম, জোড়কলম ও চোখকলমে পেয়ারার বংশবিস্তার করা যায়, আর দেশের পরিচিত স্থানীয় জাতগুলোর একটির নাম বৃহত্তর বরিশালের স্বরূপকাঠি এলাকার নামে, যেখানে এর ব্যাপক চাষ হয়। ড্রাগন ফল হলো Selenicereus undatus (আগের নাম Hylocereus) নামের লতানো ক্যাকটাসের ফল; সব প্রকৃত ক্যাকটাসের মতো এর উৎপত্তি আমেরিকা মহাদেশে, আর এর আদি বিস্তার মেক্সিকো থেকে হন্ডুরাস পর্যন্ত।

সিলেটের জৈন্তাপুরের সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে ড্রাগন ফল। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের জৈন্তাপুরের সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে ড্রাগন ফল। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কৃষক প্রশিক্ষণ ও নতুন উদ্যোক্তা


গবেষণা ও চারা উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতেও কেন্দ্রটি ভূমিকা রাখছিল। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবস, প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও পরামর্শসেবার মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছিল; প্রতিবেদন অনুযায়ী এতে অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ফল ও সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছিলেন।

উদ্যোক্তা শারমিন আক্তার বলেন, 'আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণ শেষে বাড়িতে ড্রাগন চাষ শুরু করি। বর্তমানে ছোট পরিসরে আমার একটি ড্রাগন বাগান রয়েছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় আমি ড্রাগন চাষে উৎসাহিত হয়েছি এবং ভবিষ্যতে বাগান আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।'

স্থানীয় কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, 'আমি এখানে তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। প্রশিক্ষণে কৃষিকে কীভাবে বৈজ্ঞানিক ও লাভজনক করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষিকাজ সম্পর্কে অনেক নতুন বিষয় জানতে পেরেছি। এখন সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করছি এবং আগের চেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছি।'

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) দেশে কৃষি সম্প্রসারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি দপ্তর; গবেষণায় উদ্ভাবিত এমন প্রযুক্তি সারা দেশে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এর কাজ, আর পটুয়াখালী কার্যালয়ের প্রধান একজন উপপরিচালক।

বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয় ও সম্প্রসারণ বিভাগের মূল্যায়ন


আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফল ও সবজি ফসল নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে আসছি আমরা। ইতোমধ্যে বারি বেগুন-১২ নিবন্ধিত হয়েছে, বারি সিম-১১ নিবন্ধিত হয়েছে। বারি হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়া-৪ জাতটির নিবন্ধনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।' তিনি জানান, ঢেঁড়স, সিমসহ আরও কয়েকটি ফসলের উন্নয়নকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এসব জাত নিবন্ধনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য জলবায়ু সহনশীল, অধিক ফলনশীল এবং লাভজনক জাত উদ্ভাবনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের কৃষি উৎপাদন আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আমরা আশাবাদী।'

উপাচার্য হেমায়েত জাহান বলেন, লেবুখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এ ধরনের উচ্চফলনশীল ও লাভজনক জাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তাঁর ভাষায়, 'গবেষণা কেন্দ্রটি যেভাবে নতুন জাত উদ্ভাবন, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সেই প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আমি মনে করি, এ ধরনের গবেষণা কার্যক্রম আমাদের অঞ্চলের কৃষির জন্য এক বড় আশীর্বাদ।'

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দুমকির যে প্রাঙ্গণে, সেখানে কৃষিশিক্ষার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। বাংলাপিডিয়া জানায়, যেসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (১৯৯৭-২০০২) সময় নেওয়া প্রকল্পের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে ওঠে; ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়, আর জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে দুমকিতে পটুয়াখালী কৃষি কলেজের প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়, কলেজ থেকেই এর কৃষি অনুষদের যাত্রা। বাংলাপিডিয়ার বারি-বিষয়ক ভুক্তিতে পটুয়াখালী কৃষি কলেজকে বারির তিনটি সাবেক অঙ্গীভূত কৃষি কলেজের একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণার সুফল ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক কৃষক পাচ্ছেন। তিনি বলেন, 'মানসম্মত চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নত জাতের সবজি ও ফল উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে নিয়মিত কাজ করছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের উপযোগী মাল্টা, লেবুসহ বিভিন্ন রসালো ফলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে তাদের কার্যক্রম প্রশংসনীয়।'

দুমকিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনের লেক। ছবি: Amisujon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
দুমকিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনের লেক। ছবি: Amisujon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই), দ্য ডেইলি স্টার, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

ছাদকৃষি

শীতের ছাদবাগান: কোন সবজি ও ফুল লাগাবেন, কেমন হবে টব আর মাটি

শীতের ছাদবাগানের প্রস্তুতি এখনই; ১২-১৫ ইঞ্চির টবে সবজি, ফুলের জন্য দোআঁশ মাটি, কম্পোস্ট ও কোকোপিটের মিশ্রণ, আর দিনে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা রোদ।

এই সময়১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
রান্নাবান্না

ঘরেই বানান মিষ্টি কুমড়ার পাই: উপকরণ ও প্রণালি

ময়দা, মাখন আর সেদ্ধ মিষ্টি কুমড়া, ডিম, দুধ ও দারচিনি-জায়ফলের পুর দিয়ে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ৪০-৫০ মিনিট বেক করলেই তৈরি পাম্পকিন পাই।

বার্তা২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

সৌরবিদ্যুতের পাতকুয়ায় সেচ, মীরসরাইয়ে চাষের আওতায় ২০ একর পতিত জমি

বিএডিসির বসানো সৌরবিদ্যুৎচালিত ছয়টি ডাগওয়েল বা পাতকুয়া থেকে বিদ্যুৎ বা ডিজেল ছাড়াই সেচের পানি পাচ্ছেন মীরসরাইয়ের পাহাড়ি এলাকার কৃষকেরা।

এগ্রিকেয়ার২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)