জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত এক কলামে সাংবাদিক ও কলামিস্ট ড. হারুন রশীদ (ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ) নিজের শৈশবের পাখিভরা গ্রামের স্মৃতি থেকে শুরু করে প্রশ্ন তুলেছেন, এ দেশের শিশুদের জন্য কি একটি পাখিময় শৈশব রেখে যাওয়া যায় না। মত লেখকের নিজের।
লেখকের স্মৃতিতে ঘুঘু, ময়না, টিয়া, বক, সারস আর কোকিলের ডাক ছিল দিনের ঘড়ি; বাড়ির পাশের আমগাছে ঝাঁক বেঁধে আসত স্থানীয়ভাবে সাতবল্লা নামে পরিচিত পাখি। তিনি লিখেছেন, পাখির ডাক শুনে তাঁরা ঋতু চিনতেন, আকাশে পাখির ওড়াউড়ি দেখে আবহাওয়ার আভাস পেতেন। আজকের শহরের অনেক শিশু ঘুঘুর ডাক শুনেও পাখিটিকে চিনবে না বলে তাঁর আশঙ্কা।
কলামে বলা হয়েছে, নদী, খাল, বিল, হাওর, বন আর পাখির দেশ বাংলাদেশের দৃশ্যপট গত কয়েক দশকে দ্রুত বদলেছে: বনভূমি সংকুচিত হয়েছে, জলাভূমি ভরাট হয়েছে, কৃষিজমির চরিত্র বদলেছে, নির্বিচারে গাছ কাটা হয়েছে। লেখকের মতে, পাখি কমে যাওয়া পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত, কারণ পাখি ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসল রক্ষা করে, পরাগায়নে সাহায্য করে, বীজ ছড়িয়ে নতুন গাছ জন্মাতে সাহায্য করে।
তিনি বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, অতিরিক্ত শিকার ও খাদ্যসংকটে পৃথিবীর বহু প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। উন্নয়নের হিসাবে কত ভবন আর সড়ক হলো তা থাকে, কিন্তু কতটি গাছ, পাখির বাসা আর জলাভূমি হারাল তার হিসাব কেউ রাখে না, এ নিয়েও তাঁর আক্ষেপ।
সমাধান হিসেবে লেখক স্থানীয় পর্যায় থেকে কাজ শুরুর কথা বলেছেন: শহর ও গ্রামে পাখির আবাস উপযোগী গাছ লাগানো, পুরোনো গাছ রক্ষা, জলাশয়, খাল, বিল ও প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ, পাখি শিকার ও বন্যপ্রাণী বেচাকেনা বন্ধে আইনের প্রয়োগ। নগর পরিকল্পনায় বিদেশি শোভাবর্ধক গাছের বদলে দেশি ফলদ গাছকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্কুলে পাখি চেনানোর কর্মসূচিরও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
পরিবারের ভূমিকার কথাও এসেছে কলামে: শিশুকে পাখির নাম শেখানো, জানালার পাশে পানি রাখা, আঙিনায় গাছ লাগানো কিংবা ছুটির দিনে জলাভূমিতে নিয়ে যাওয়া। লেখকের ভাষায়, পাখিদের জন্য দরকার গাছ, বন, জলাশয় ও নিরাপদ আকাশ, আর দরকার মানুষের মমতা ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতা।
ছবি: Fabian Roudra Baroi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)