তুরস্কের ভূমধ্যসাগরতীরের শহর আনতালিয়ায় ৯ থেকে ২০ নভেম্বর বসছে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন, কপ-৩১। আমার দেশে প্রকাশিত কলামে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ (বর্তমানে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা) লিখেছেন, প্যারিস চুক্তি কার্যকরের এক দশক পূর্তিতে এই সম্মেলন নিছক আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, মানবজাতির টিকে থাকার লড়াইয়ের এক অগ্নিপরীক্ষা।
লেখকের বর্ণনায়, এবার যৌথ সভাপতিত্বে আছে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া: স্বাগতিক তুরস্ক কর্মপরিকল্পনা চালাচ্ছে, আর মূল দর-কষাকষির সভাপতি অস্ট্রেলিয়া, যার উদ্যোগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্সি ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বিদ্যুতায়নের হার ৩৫ শতাংশে তোলা এবং ভবন খাতে জ্বালানি তীব্রতা অন্তত ২৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি ইউএনইপির এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন: উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার সুযোগ কার্যত হাতছাড়া; বর্তমান নীতিতে শতাব্দী শেষে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি বাড়তে পারে, প্রতিশ্রুতি পুরো রক্ষা হলেও ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি। এটি ঠেকাতে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে অন্তত ৪৫ শতাংশ নিঃসরণ কমাতে হবে। ডব্লিউএমওর তথ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড এখন ৪২৬ দশমিক ৮ পিপিএম, ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
কলামে ডব্লিউএইচওর সতর্কবার্তাও আছে, বিশ্বের প্রায় ৩৩০ থেকে ৩৬০ কোটি মানুষ জলবায়ুজনিত উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। ল্যানসেট কাউন্টডাউন ২০২৬ অনুযায়ী, প্যারিস চুক্তির পরের দশকে তাপপ্রবাহজনিত গড় বার্ষিক মৃত্যু প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে দুর্যোগে শুধু বিমাকৃত ক্ষতিই ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, অথচ উন্নয়নশীল দেশের অভিযোজনে বছরে প্রায় ৩০৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন, হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলায় বর্ষায় বন্যা ও নদীভাঙন বাড়ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় পানিসংকটে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ এক মিটার বাড়লে উপকূলের ১৭ থেকে ২০ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি, যা প্রায় তিন কোটি মানুষকে জলবায়ু উদ্বাস্তু করতে পারে; লোনাপানি ফসলি জমি নষ্ট করছে এবং সুন্দরবনও হুমকিতে। তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট তথ্য বিনিময়, যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা ও আগাম সতর্কব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন।
লেখক জানান, সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাশা, অন্যের নিঃসরণের দায় বাংলাদেশের মানুষ বহন করছে, এই নৈতিক অবস্থান তুলে ধরে উন্নত দেশগুলোকে নিঃসরণ কমানো ও লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলের অর্থ দ্রুত ছাড়ের তাগিদ দেওয়া হবে। লেখায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Pakos / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)