দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংসাং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (Gyeongsang National University) গবেষকেরা পরীক্ষাগারে চাষ করা প্রাণিকোষ আর উদ্ভিজ্জ প্রোটিন মিলিয়ে আস্ত টুকরার কালচার্ড মাংস তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, এই পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ কমানো যায়। গ্রিন কুইন এ খবর দিয়েছে। প্রকল্পে অর্থ দিয়েছে কোরিয়ার খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষি, খাদ্য ও বনপ্রযুক্তি পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন ইনস্টিটিউট আইপিইটি (IPET)।
এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ কালচার্ড মাংস তৈরি হয়েছে কিমা আকারে, যেমন বার্গার বা নাগেট, যার স্বাদ ও গঠন ভোক্তাকে প্রায়ই হতাশ করে। কোরীয় দলটি চাষ করা পেশিকোষের সঙ্গে মটর, সয়া ও গমের প্রোটিন মিশিয়ে সুতার মতো কৃত্রিম পেশিতন্তু তৈরি করে, তারপর সেগুলো একসঙ্গে বেঁধে গরুর মাংসের মতো গঠনের ত্রিমাত্রিক টুকরা বানায়। ওপরে উদ্ভিজ্জ তেল আর গরুর চর্বির মিশ্রণের প্রলেপ দিয়ে সারলয়েন ও টেন্ডারলয়েনের মতো চর্বির বিন্যাস, মার্বেলিং আর চিবানোর অনুভূতি আনা হয়েছে।
গবেষকেরা কারখানার উপযোগী যন্ত্রও তৈরি করেছেন, যা নুডলস টানার মতো প্রক্রিয়ায় সূক্ষ্ম তন্তু বিপুল পরিমাণে বের করে গুচ্ছ বাঁধে। কোষ চাষের কাঠামো বা স্ক্যাফোল্ড বারবার ব্যবহার এবং দামি কালচার মাধ্যমের বদলে সাশ্রয়ী পদ্ধতি নেওয়ায় খরচ কমেছে। বাজারে এলে প্রতি কেজির দাম হতে পারে প্রায় ৪০,০০০ উওন (৩০ ডলার), যা প্রথম গ্রেডের হানউ গরুর সারলয়েনের প্রায় অর্ধেক।
আইপিইটির একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ভবিষ্যতের খাদ্য সমস্যা সমাধানে বিশ্বমানের প্রযুক্তি অর্জন করেছেন, আর প্রযুক্তিটি যেন পরীক্ষাগারে আটকে না থেকে খাবারের টেবিলে পৌঁছায়, সে জন্য তাঁরা পুরো সহায়তা দেবেন। গবেষক দলটি ২০২৪ সালে অরেঞ্জ কাউ (Orange Cow) নামে একটি স্টার্টআপ খুলেছে, যা এখন প্রোটোটাইপ থেকে পণ্য তৈরির কাজ করছে।
সবচেয়ে বড় বাধা অনুমোদন। দক্ষিণ কোরিয়ায় কালচার্ড মাংসের মতো নতুন খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করে খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়। বাজারজাতকরণ দ্রুত করতে সরকার গিয়ংবুকে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণমুক্ত অঞ্চল করেছে। সেলমিট, সিম্পল প্ল্যানেট ও সি-উইথসহ কয়েকটি স্টার্টআপ অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা জরিপ অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ কোরীয় কালচার্ড মাংস খেয়ে দেখতে রাজি।
প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য এই হাইব্রিড পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাজারে পৌঁছানো প্রায় সব কালচার্ড মাংস কোম্পানি এই পথই নিয়েছে: আসল প্রাণিকোষ, তবে মাংসের বড় অংশ আসছে মটর, সয়া ও গমের মতো ফসল থেকে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন গ্রিন কুইনের অনয় মৃদুল।
ছবি: Weli'mi'nakwan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)