৮৭টি দেশের ২,৩২০টি চিনাবাদাম নমুনার জিনগত বৈচিত্র্যের মানচিত্র তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। আধা-শুষ্ক অঞ্চলের ফসল নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইক্রিস্যাট (ICRISAT) একে এই ফসল নিয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তৃত জিনোম গবেষণা বলছে। গবেষণাটি ছাপা হয়েছে নেচার জেনেটিক্স সাময়িকীতে, আর উদ্ভিদ প্রজননবিদদের জন্য এটি উন্মুক্ত সম্পদ।
সমস্যাটি পুরোনো। গবেষণার সহনেতা ইক্রিস্যাটের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মনীশ কে. পাণ্ডে (Dr Manish K. Pandey) বলেছেন, সংকীর্ণ জিনগত ভিত্তির কারণে কয়েক দশক ধরে চিনাবাদামের জাত উন্নয়ন আটকে আছে। প্যান-জিনোমে একসঙ্গে অনেক জাতের তুলনা হয়, ফলে একটি মাত্র জিনোমে যে বড় পার্থক্যগুলো ধরা পড়ে না, সেগুলো সামনে আসে।
গবেষকেরা ডিএনএর এমন বহু কাঠামোগত ভিন্নতা তালিকাভুক্ত করেছেন, যা আগে ধরা পড়েনি। দুটি জিন আলাদা করে নজরে এসেছে। AhTFL1 ফুল ফোটার সময়ের সঙ্গে যুক্ত, আর Ah12g032500 গাছকে খাটো রাখার জিন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। খাটো গাছ যন্ত্রে তোলা সহজ করতে পারে, ঘন করে লাগানোও সম্ভব হতে পারে। বীজের আকার ও শুঁটির সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত জিন খোঁজার পথও এতে তৈরি হয়েছে।
নমুনার বড় অংশ এসেছে জিন ব্যাংক থেকে। ইক্রিস্যাটের মূল সংগ্রহের ৮৮.০৩ শতাংশ এবং মার্কিন কৃষি বিভাগের চিনাবাদাম সংগ্রহের ৫৯.২১ শতাংশ এতে আছে। ইক্রিস্যাটের গবেষণা পরিচালক ড. রমন বাবু (Dr Raman Babu) বলেছেন, এই আবিষ্কারের কেন্দ্রে রয়েছে জিন ব্যাংকটি।
ইক্রিস্যাটের সঙ্গে নেতৃত্বে ছিল চীনের শানডং ও হেনান কৃষি বিজ্ঞান একাডেমি এবং অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি জৈবপ্রযুক্তি কেন্দ্র।
জিনোম গবেষণা মানেই নতুন জাত নয়, আর এই গবেষণার সঙ্গে কোনো জাত ছাড়ের তারিখও আসেনি। এর কাজ আরও গোড়ায়: বেশি ফলন, ভালো পুষ্টি ও জলবায়ুসহনশীলতার জিন এখান থেকে খুঁজে নিতে পারবেন প্রজননবিদেরা। ইক্রিস্যাটের মহাপরিচালক ড. হিমাংশু পাঠক (Dr Himanshu Pathak) একে শুষ্ক অঞ্চলের ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য উন্নত ফসলের পথে একটি ধাপ বলেছেন।
ছবি: H. Zell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)