ঢাকার সাভারের বরিশাল নার্সারিতে এমন এক ফুলের গাছ ফুটছে, যার ফুলে আলাদা পাপড়ি চোখে পড়ে না; পুষ্পমঞ্জরি দেখতে অনেকটা মাকড়সার ঠ্যাং বা টুথব্রাশের মতো। নার্সারির ম্যানেজার একে 'বোতলব্রাশ' বললেও প্রথম আলোয় লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায় বইপত্র ঘেঁটে এর মিল পেয়েছেন গ্রেভিলিয়া গণের সঙ্গে, বিশেষ করে Grevillea acanthifolia প্রজাতির সঙ্গে।
নার্সারির স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম জানান, অল্প কিছু গ্রেভিলিয়ার চারা তিনি থাইল্যান্ড থেকে এনেছিলেন; সেগুলো মাতৃগাছ হিসেবে বড় করা হচ্ছে এবং প্রায় সারা বছর ফুল ফুটছে। ফুলের বিচিত্র গড়ন দেখেই তিনি গাছটি সংগ্রহ করেন; একাধিক জাতের গ্রেভিলিয়া তাঁর কাছে আছে।
গ্রেভিলিয়া প্রোটিয়েসি গোত্রের, যে গোত্রে প্রায় ৮০টি গণের ২ হাজার প্রজাতি। এ গোত্রের ফুলে আলাদা পাপড়ি ও বৃতি থাকে না, থাকে পাপড়ির মতো চারটি অংশের একটি চক্র, যাকে বলে টেপাল। শুধু গ্রেভিলিয়া গণেই ৩৮০টি প্রজাতি, সাধারণভাবে যাদের স্পাইডার ফ্লাওয়ার বলা হয়। গণটির নাম রয়্যাল হর্টিকালচার সোসাইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা, ১৮ শতকের উদ্ভিদবিদ চার্লস ফ্রান্সিস গ্রেভিলির নামে।
Grevillea acanthifolia-র ইংরেজি নাম Acanthus-leaved grevillea; কোনো বাংলা নাম পাওয়া যায়নি। ইংরেজ উদ্ভিদবিদ অ্যালান কানিংহাম (১৭৯১-১৮৩৯) ১৮১৭ সালে পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অভিযানে নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনসের পিটযুক্ত জলাভূমি ও কক্স নদীর তীরে গাছটি দেখেন এবং ১৮২৫ সালে এর আনুষ্ঠানিক বর্ণনা প্রকাশ করেন।
এটি বহুবর্ষজীবী গুল্ম। সাভারের গাছ দুটি সোয়া মিটারের মতো লম্বা, ডালপালা চারদিকে এলোমেলো ছড়ানো। পাতা শক্ত, কাঁটাযুক্ত, উজ্জ্বল সবুজ, ৯ থেকে ১৪টি খণ্ডে গভীরভাবে চেরা; লম্বায় ৪ থেকে ৯ ও চওড়ায় ৩ থেকে ৭ সেন্টিমিটার। গোলাপি থেকে বেগুনি ফুলগুলো এক পাশে সাজানো, পুষ্পমঞ্জরি ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার, লম্বা লাল গর্ভদণ্ডের মাথায় সবুজ পরাগধারী অংশ। সারা বছর ফুটলেও অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারিতে ফুল বেশি হয়; ফুল ঝরে রোমশ ফলিকল ফল হয়।
গাছটি নিউ সাউথ ওয়েলসের স্থানীয় উদ্ভিদ, সেখানে উঁচু ও ভেজা জলাভূমিতে জন্মায়। লেখকের তথ্যমতে, বাংলাদেশে গ্রেভিলিয়া গণের একটি প্রজাতি, Grevillea robusta বা সিলভার ওক থাকার তথ্য আছে, তবে এ প্রজাতির সরকারি কোনো তথ্য নেই। দৃষ্টিনন্দন চেহারার জন্য বিভিন্ন দেশে এটি শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে লাগানো হচ্ছে, এ দেশেও এর বিস্তার ঘটেছে।
ছবি: Ian Sutton / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)