দক্ষিণ আফ্রিকায় আগাছানাশক-প্রতিরোধী আগাছার সমস্যা বাড়ছে, বিশেষ করে চাষ না দিয়ে রাসায়নিকে আগাছা দমন করা দানাশস্যের খামারে। পিগউইড বা নটে জাতের আগাছা, পামার অ্যামারান্থ, রাইগ্রাস ও ফ্লিবেন এরই মধ্যে প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি। কৃষি গবেষণা পরিষদ এআরসির আণবিক জীববিজ্ঞানী পালেসা ম্মেরেকি (Palesa Mmereki) ব্যাখ্যা করেন, একই ওষুধ বারবার দিলে সংবেদনশীল আগাছা মরে যায়, কিন্তু যেসব গাছের জিন তাদের বাঁচিয়ে রাখে সেগুলো টিকে যায়, আর তারাই পরের প্রজন্মে প্রতিরোধ ছড়ায়।
প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও দক্ষিণ আফ্রিকান হার্বিসাইড রেজিস্ট্যান্স ইনিশিয়েটিভের সহ-নেতা হুয়ান ভরস্টার (Juan Vorster) বলেন, চাষের পদ্ধতিরও বড় ভূমিকা আছে: গ্লাইফোসেটের ওপর অতিনির্ভরতা, আগাছানাশক বদলে না দেওয়া, আর প্রায় পুরোপুরি রাসায়নিকনির্ভর ব্যবস্থা। সাব-সাহারান আফ্রিকার ৪৯টি দেশের মাত্র তিনটি আগাছানাশক প্রতিরোধের তথ্য দিয়েছে। তাঁর মতে, এর কারণ সমস্যা ছোট বলে নয়, আগাছা বিজ্ঞানীর ঘাটতি।
কয়েকটি এলাকা এরই মধ্যে চিহ্নিত। কোয়াজুলু-নাটালের উইন্টারটন ও বার্গভিলের আশপাশে গ্লাইফোসেট-প্রতিরোধী পিগউইড পাওয়া গেছে। গাউতেং, এমপুমালাঙ্গা ও ফ্রি স্টেটের ডেলমাস, স্ট্যান্ডারটন, রাইটজ, হেইলব্রন ও বেথলেহেম এলাকায় ভুট্টা, সয়াবিন, শিম ও সূর্যমুখীর খেতে গ্লাইফোসেট ও এএলএস-জাতীয় আগাছানাশক-প্রতিরোধী আগাছা বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। নর্দার্ন কেপ, নর্থ ওয়েস্ট ও লিম্পোপোতে পামার অ্যামারান্থ তুলা, ভুট্টা ও সয়াবিনে গ্লাইফোসেটে মরছে না। ওয়েস্টার্ন কেপের গম ও ক্যানোলায় রাইগ্রাস গ্লাইফোসেট ও প্যারাকুয়াট সহ্য করছে, আর ১৯৯০ সালে প্রথম ধরা পড়া অ্যাট্রাজিন প্রতিরোধ আবার দেখা দিচ্ছে।
এসব আগাছা দ্রুত ছড়ায়। ভরস্টার বলেন, খেতের কিনারায় যেখানে পুরো মাত্রার বদলে শুধু ভেসে আসা স্প্রে পড়ে, সেখানে মাত্র তিন প্রজন্মেই প্রতিরোধ তৈরি হতে পারে। হারভেস্টার, কাদামাখা গাড়ি, পাখি, পশু আর বাতাস খামার থেকে খামারে বীজ নিয়ে যায়, অথচ কৃষিযন্ত্র চলাচল নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো উদ্ভিদ সংগনিরোধ নিয়ম নেই। একটি অ্যামারান্থ গাছ ৩ থেকে ৪ লাখ বীজ দিতে পারে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ প্রথম বছরেই গজাতে পারে, আর বীজ তিন বছর পর্যন্ত বাঁচে। তাই খেতের আগাছা মারার মতোই জরুরি তাদের বীজ হতে না দেওয়া।
ভরস্টারের মতে, সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত হলো একই জাতের কিছু আগাছা স্প্রের পরও বেঁচে থাকা, যখন পাশেরগুলো মরে গেছে। তবে আগে দেখে নিতে হবে আগাছা বেশি বড় হয়ে যাওয়ার পর স্প্রে করা হয়েছিল কি না। সন্দেহভাজন গাছের বীজ গ্রিনহাউসে পরীক্ষা করতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ লাগে বলে জানান ম্মেরেকি। ডিএনএ পরীক্ষা দ্রুত, তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় এখনো সব ধরনের প্রতিরোধ এতে ধরা পড়ে না।
যেসব দানাশস্য চাষি এক-দুটি আগাছানাশকের ওপর নির্ভর করেন, বিজ্ঞানীদের বার্তা তাঁদের জন্য: ভিন্ন কার্যপদ্ধতির ওষুধ পালা করে দিন, আর স্প্রের পর বেঁচে যাওয়া কয়েকটি আগাছাকে বড় ও ব্যয়বহুল সমস্যার শুরু হিসেবেই দেখুন।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফার্মার্স উইকলির লিন্ডি বোথা।
ছবি: Yercaud-elango / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)