চীনে ৯৫ শতাংশ গ্লাইফোসেট টেকনিক্যালের দাম সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি টনপ্রতি ২৭,০৯২.৯ ইউয়ানে উঠেছে। মাসের শুরুর তুলনায় বেড়েছে ১,৬১৭.৯ ইউয়ান বা ৬.৪ শতাংশ। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (NBS) বাজারদর বুলেটিনে এ তথ্য দেওয়া হয়। আগাছানাশকটির এটিই সর্বশেষ সরকারি দর, যা বছরের শেষ প্রান্তিকের আগে সরবরাহ টানাটানির ইঙ্গিত দেয়।
প্রতি দশ দিনে হওয়া এই জরিপে নয়টি শ্রেণির ৫০টি প্রধান উৎপাদন উপকরণের দাম দেখা হয়। তথ্য আসে ৩১টি প্রদেশের ৩০০-এর বেশি বাজারের প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠান থেকে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি দাম বেড়েছে যে ২১টি পণ্যের, গ্লাইফোসেট তার একটি। কমেছে ২৬টির, অপরিবর্তিত ছিল তিনটির। কৃষি রাসায়নিক তৈরির কাঁচামালের মধ্যে মিথানল বেড়েছে ৯.৪ শতাংশ, অ্যাসেটিক অ্যাসিড ১৭.৪ শতাংশ, আর ৯৮ শতাংশ সালফিউরিক অ্যাসিড কমেছে ৩.২ শতাংশ।
বুলেটিনের আগের সপ্তাহগুলোতে চীনের বাণিজ্য প্রকাশনাগুলো প্রধান আগাছানাশক উপাদানগুলোর দাম বাড়ার খবর দিয়েছিল। গ্লুফোসিনেট-অ্যামোনিয়ামের দাম সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এক মাসে প্রায় ১২ শতাংশ বাড়ে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা কারণ হিসেবে বলছেন ২০২৬-এর শুরু থেকে বৈশ্বিক রাসায়নিক কাঁচামালের বাজারে বিঘ্ন, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কিছু কৃষি রাসায়নিক রপ্তানিতে কর ফেরত সুবিধা প্রত্যাহার, এবং গ্লাইফোসেট ও গ্লুফোসিনেটের বাড়তি বৈশ্বিক চাহিদা। কয়েকটি বাজারে প্যারাকোয়াট সীমিত হওয়ায় গ্লুফোসিনেটের ব্যবহার বাড়ছে।
গ্লাইফোসেট টেকনিক্যালের বিশ্বের প্রধান উৎপাদক ও রপ্তানিকারক চীন। কারখানাগুলো মূলত সিচুয়ান, জিয়াংসু ও ঝেজিয়াং প্রদেশে। দেশের ভেতরের দামের ওঠানামা সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রপ্তানি দরে প্রতিফলিত হয়।
এর প্রভাব পড়ে বড় ব্যবহারকারী দেশগুলোর ফর্মুলেটর ও আমদানিকারকদের ওপর, যেমন ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। নিজেদের গ্লাইফোসেট পণ্য তৈরিতে এসব দেশ চীনা কাঁচামালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
ছবি: Victor M. Vicente Selvas / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)