পাবনার সুজানগরে ‘শস্যভান্ডার’ নামে পরিচিত গাজনার বিলের প্রায় ১০ হাজার হেক্টরের মধ্যে ৬ হাজার হেক্টরই এখন কচুরিপানায় ঢাকা। এতে বিলের আড়াই হাজার হেক্টর জমির বোনা আমনের বৃদ্ধি থমকে গেছে, আর সামনের শুকনো মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদ নিয়েও শঙ্কায় কৃষকেরা, জানিয়েছে কৃষি সময়।
বর্ষায় বিলে পানি বেশি থাকায় শুরুতে ভালো ফলনের আশা ছিল। বোনা আমনের গাছ সাধারণত পানির গভীরতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ে। কিন্তু একই সময়ে কচুরিপানাও ছড়িয়েছে, তাতে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি আটকে গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষার আগে সরকারিভাবে বিষ প্রয়োগ করে কচুরিপানা মারার চেষ্টা হয়; কিছু জায়গায় পচে গেলেও বর্ষা নামলেই আবার আগের অবস্থা ফেরে। খয়রান এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর ধান ও পেঁয়াজ আবাদ ব্যাহত হচ্ছে, কৃষি বিভাগের স্থায়ী সমাধান খোঁজা উচিত। সাধুপুর গ্রামের আমনচাষি গফুর জানান, নিজেরা চেষ্টা করেও এত কচুরিপানা সরাতে পারছেন না, ফলন কমার আশঙ্কা করছেন।
উলাট গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেনের প্রস্তাব, বিষ দিয়ে সাময়িকভাবে না মেরে শুকনো মৌসুমে সরকারি প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে বিল থেকে কচুরিপানা পুরোপুরি তুলে ফেললে এই ভোগান্তি থাকত না।
সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষি অফিস থেকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে; স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় কৃষক, ছাত্র ও যুবকেরা স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা সরাচ্ছেন। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, অপসারণের চেষ্টা চলছে, তবে স্থায়ী সমাধানে সরকারের পাশাপাশি জমির মালিক ও স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞদের মত, বিলে ব্যাপকভাবে বিষ দিলে পানিতে অক্সিজেন কমে দেশি মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে; যান্ত্রিক বা হাতে তুলে ফেলাই পরিবেশবান্ধব। শুকনো মৌসুমে তুলে স্তূপ করে রাখা কচুরিপানা পচে জৈব সার হতে পারে, যা পরের মৌসুমে পেঁয়াজ ও সবজি চাষে সারের খরচ কমাবে।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)