শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্যে গাজীপুরের পূবাইল ও টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন খালের পানি কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে, মাছ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি ও মানুষের জীবিকা। এগ্রিকেয়ার২৪ প্রতিবেদনটি শিক্ষা সংবাদের বরাতে প্রকাশ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গীর গাজীপুরা শিল্পাঞ্চলের তরল বর্জ্য হায়দারপুর খালসহ আশপাশের জলাশয়ে পড়ে টঙ্গী খাল হয়ে তুরাগ ও বালু নদীতে যাচ্ছে। শুকুন্দিবাগের বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, একসময় খালে প্রচুর মাছ মিলত, এখন প্রায় নেই, আর দূষিত পানিতে ঘরের টিন ও ধাতব জিনিস দ্রুত মরিচা ধরে। কৃষক হারুন মিঞা জানান, দূষিত পানির কারণে আগের মতো চাষ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত জমি বিক্রি করে দিতে হয়েছে। হাজীপাড়া, টেকপাড়া, নিমতলী ও মাজুখানসহ আরও কয়েকটি এলাকায় একই দূষণের কথা বলছেন বাসিন্দারা।
শিল্পাঞ্চল ও তুরাগের উজান থেকে নেওয়া পানির নমুনায় সীসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, নিকেল ও আয়রন পাওয়া গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এ এইচ এম সেলিম রেজা জানান, কয়েকটি জায়গায় দ্রবীভূত আয়রন নিরাপদ সীমার প্রায় পাঁচ গুণ, সীসা ৩০ গুণ, ক্রোমিয়াম পাঁচ গুণ এবং নিকেল ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি। ২০২৫ সালে প্রকাশিত তাঁর সহ-গবেষণাতেও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পানিতে ভারী ধাতুর দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা এসেছিল।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, গার্মেন্টস ওয়াশিং, ওষুধ ও রাসায়নিক কারখানার বর্জ্য পরিশোধন ছাড়া জলাশয়ে পড়লে পানির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বদলে জলজ প্রাণী, কৃষি ও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, শুধু কারখানা নয়, বাসাবাড়ির পয়োনিষ্কাশনের দিকেও নজর দিতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল জানান, গাজীপুরে প্রায় ৭ হাজার শিল্পকারখানার মধ্যে ৬৮৮টি নিবন্ধিত কারখানায় বর্জ্য পরিশোধনের ইটিপি আছে, তবু কিছু কারখানা অপরিশোধিত বর্জ্য ছাড়ছে। তদারকির দায়িত্বে থাকা কার্যালয়ে পরিদর্শক মাত্র তিনজন, সব মিলিয়ে পাঁচজন কর্মী। অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং উইংয়ের তথ্যে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তুরাগ দূষণে ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ টাকা।
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)