রোমে সোমবার শুরু হয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বন বিষয়ক কমিটির (COFO) ২৮তম অধিবেশন। উদ্বোধনী বক্তব্যে এফএও মহাপরিচালক কু দংইউ (QU Dongyu) খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নীতিতে বনকে আরও ভালোভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বনের বহু অবদান এখনো দেশগুলোর পরিসংখ্যান ও কৌশলে প্রতিফলিত হয় না।
কু বলেন, বন উজাড়, দাবানল, রোগবালাই ও অটেকসই ব্যবস্থাপনার মতো নানা হুমকির মুখে কমিটির ভূমিকা এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের ৫০০ কোটির বেশি মানুষ জীবিকার জন্য কোনো না কোনোভাবে বনের ওপর নির্ভরশীল; বননির্ভর কিছু জনগোষ্ঠীর দৈনিক আমিষের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ওজনের হিসাবে মোট খাদ্যের অর্ধেক আসে বনজ খাদ্য থেকে।
দাবানলের ঝুঁকির কথাও বিশেষভাবে তোলেন তিনি। প্রতিবছর অন্তত ১২ কোটি ৭০ লাখ হেক্টর বন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর অনেক অঞ্চলে আগুন আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে। এফএও জানিয়েছে, গ্লোবাল ফায়ার ম্যানেজমেন্ট হাবের মাধ্যমে তারা সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত অগ্নি ব্যবস্থাপনা ও সীমান্তপার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে।
উদ্বোধনের পর এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে কু 'ফরেস্টস ফর ফুড' নামের একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, যা এফএও ও ল্যান্ডস্কেপ অ্যালায়েন্স অংশীদারদের সঙ্গে মিলে তৈরি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত ৫০ হাজারের বেশি বন্য প্রজাতির মাধ্যমে বন মানুষের খাদ্য ও জীবিকা জোগায়; এর মধ্যে অন্তত ১০ হাজার প্রজাতি খাদ্য হিসেবে খাওয়া হয়। অনেক গ্রামীণ এলাকায় পরিবারের আয়ের ২০ শতাংশ পর্যন্ত আসে বন থেকে।
কৃষির জন্যও বন জরুরি: মাটি রক্ষা, পরাগায়নকারী পোকা টিকিয়ে রাখা, পুষ্টি চক্র, পশুখাদ্য ও ছায়া জোগানো এবং চরম আবহাওয়া থেকে ফসল ও গবাদিপশুকে আড়াল করা। প্রতিবেদনে চারটি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে: জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কৌশলে বন ও গাছকে যুক্ত করা, তথ্য ও গবেষণা জোরদার, টেকসই বন ব্যবস্থাপনার বিস্তার এবং নিরাপদ ভূমিস্বত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন।
অধিবেশনে বিশ্বের বন পরিস্থিতি নিয়ে এফএওর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। কমিটির অধিবেশন ও দশম বিশ্ব বন সপ্তাহ চলবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত, যেখানে কৃষিবনায়ন, বনভিত্তিক জৈব অর্থনীতি, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও বন পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হবে।
ছবি: ©এফএও
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)