সিরাজগঞ্জের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত তাড়াশ উপজেলায় রোপা আমন মৌসুমের ভরা সময়ে ডিলারদের বিরুদ্ধে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দামে সার না পেলেও বেশি টাকা দিলেই গুদাম থেকে সার মিলছে বলে কৃষকদের অভিযোগ, যদিও উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি, ডিলারদের কাছে কোনো সার মজুত নেই।
কৃষকেরা জানান, প্রতিবছর আমন, বোরো ও সরিষার মৌসুমে একটি চক্র সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি আদায় করে। বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারি গ্রামের কৃষক বেলাত মণ্ডল পাঁচ বিঘায় আমন করেছেন; তিনি টিএসপি কিনেছেন বস্তা ১ হাজার ৮৮০ টাকায়, ইউরিয়া ১ হাজার ৬৫০ টাকায় আর পটাশ ১ হাজার ৫০০ টাকায়।
অথচ উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যে ৫০ কেজির বস্তা টিএসপি ও ইউরিয়ার সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং পটাশের ১ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হচ্ছে। বিসিআইসির ১২ জন, বিএডিসির ১৭ জন ডিলার ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ৭২ জন সাব-ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের নিয়ম; খোলাবাজারে বিক্রির সুযোগ নেই।
আসানবাড়ি গ্রামের মো. মাসুদ মণ্ডল ৪০ বিঘায় আমন লাগালেও সংকট ও বাড়তি দামের কারণে এখনো কোনো জমিতে সার দিতে পারেননি। খানপাড়ার আবু তালেব খান ১০০ বিঘার বেশি জমির জন্য সার না পেয়ে ডিলারদের কাছে জিম্মি বলে জানান। ইত্তেফাকের সংবাদদাতা বিনসাড়া বাজারে বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার মেসার্স তানভীর এন্টারপ্রাইজের গুদামে প্রায় এক হাজার বস্তা সার মজুত দেখেছেন, সেখানেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের তাড়াশ উপজেলা সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান বলেন, গুদামে সার থাকলে তা সরকারি দামেই বিক্রি করতে হবে; সংকট দেখিয়ে মজুত ও বাড়তি দামে বিক্রি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সুজনের উপজেলা আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক রাজু গুদামে অভিযান চালিয়ে সার জব্দ করে ন্যায্যমূল্যে বিতরণ ও জড়িত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিডিএলজি ও তাড়াশের ইউএনওকে সরেজমিন তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)