রাতে ঘুম আসতে দেরি, বারবার ঘুম ভাঙা বা দিনে অতিরিক্ত তন্দ্রার পেছনে মানসিক চাপ বা অনিয়মিত জীবনযাপনের পাশাপাশি কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দায়ী হতে পারে। বাংলা ট্রিবিউনের জীবনযাপন ডেস্ক জনস হপকিন্স মেডিসিনের ঘুমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. ডেভিড নিউবাওয়ারের বরাতে জানিয়েছে, ঘুমের সমস্যা নিয়ে রোগী এলে তিনি প্রথমেই জানতে চান রোগী কী কী ওষুধ খাচ্ছেন।
প্রথম দলে আছে মনোযোগের ঘাটতি ও অতিসক্রিয়তাজনিত সমস্যা (এডিএইচডি) চিকিৎসার অ্যাডেরল, রিটালিন ও কনসার্টার মতো উদ্দীপক ওষুধ। এগুলো মস্তিষ্ককে সজাগ রেখে ঘুম আসতে দেরি করাতে পারে; দীর্ঘক্ষণ কার্যকর ওষুধের প্রভাব কারও কারও সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে। সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে সেবনের সময় ঠিক করা যায়।
দ্বিতীয়ত, সিউডোএফেড্রিনযুক্ত কিছু সর্দি ও নাক বন্ধের ওষুধ সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে ও বুক ধড়ফড়ের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। বিকল্প ওষুধ বা নাকের স্প্রে চলবে কি না, তা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছে জানতে বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, ধূমপান ছাড়ার সময় নিকোটিনের অভাবে যেমন ঘুম ব্যাহত হয়, তেমনি নিকোটিনের প্যাচ, চুইংগাম ও লজেন্সও হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে কারও কারও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
চতুর্থত, বিষণ্নতার কিছু ওষুধে কারও ঘুম কমে, কারও তন্দ্রা বাড়ে; প্রোজ্যাক, জোলফট, সিমবাল্টা ও ইফেক্সরের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তিভেদে আলাদা, আর ওয়েলবিউট্রিনের মতো ওষুধের উদ্দীপক প্রভাব আছে। পঞ্চমত, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্যন্ত্রের অকার্যকারিতা এবং কিছু কিডনি ও যকৃতের রোগে ব্যবহৃত মূত্রবর্ধক ওষুধে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হয়, যা ঘুম ভাঙার বড় কারণ।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ঘুমের সমস্যা হচ্ছে বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রয়োজনীয় ওষুধ বন্ধ করা বা মাত্রা বদলানো উচিত নয়; চিকিৎসকই মাত্রা, সেবনের সময় বা বিকল্প চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেবেন। মূত্রবর্ধক ওষুধের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পানি বা তরল খাওয়া অতিরিক্ত কমানো ঠিক নয়।
পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ওঠা, বিকেলের পর চা-কফির মতো ক্যাফেইন এড়ানো, ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল না খাওয়া এবং শোবার ঘর অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি: Würfel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)