সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ৫ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৩°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৩%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

শখের বসে চীনা মুরগির খামারে ফিরোজ-সুফি দম্পতির সফলতা

মো. ফিরোজ আলম লিংকন (৩৯)। বাড়ি গাইবান্দা জেলার সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামে। ওই গ্রামেরই মো. মকবুল হোসেন ও শেফালী সরকার দম্পতির প্রথম সন্তান তিনি। ফিরোজরা তিন ভাই, দুই বোন। অন্য ভাই-বোনেরা ভিন্ন ভিন্ন পেশায় জড়িত। তবে ফিরোজ পেশায় এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসায়ী। মূলত চীনের সঙ্গে তিনি এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের

মো. ফিরোজ আলম লিংকন (৩৯)। বাড়ি গাইবান্দা জেলার সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামে। ওই গ্রামেরই মো. মকবুল হোসেন ও শেফালী সরকার দম্পতির প্রথম সন্তান তিনি। ফিরোজরা তিন ভাই, দুই বোন। অন্য ভাই-বোনেরা ভিন্ন ভিন্ন পেশায় জড়িত। তবে ফিরোজ পেশায় এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসায়ী। মূলত চীনের সঙ্গে তিনি এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসা করেন। ব্যবসার কাজে চীনে যাওয়া আসার সুবাদে পরিচয় হয় ওই দেশের নাগরিক স্কুলশিক্ষক ওয়াং লু ফিং সুফির সঙ্গে। পরিচয়ের সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক, এরপর বিয়ে। পরে সুফি ফিরোজের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন।

কিন্তু কর্মচঞ্চল সুফি বেকার বসে থাকতে রাজি নন। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা গ্রামে কিছু জমি লিজ নেন ফিরোজ-সুফি দম্পতি। সেখানে এস. এস রেয়ার ব্রিজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্ম নামে শখের বশে চীনের বিভিন্ন জাতের মুরগি লালন-পালন শুরু করেন তারা। চীন থেকে ডিম এনে তা ইনকিউবেটরের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় ৮৪টি বাচ্চা পান। সেখান থেকে এখন তাদের খামারে রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন সহস্রাধিক চীনের বিভিন্ন জাতের মুরগি।

নগরভেলার মুরগীর খামার ছাড়াও রাজধানীর উত্তরার উত্তরখানে আরও ৩টি খামার গড়ে তুলেছেন তারা। ওই খামারগুলোর একটিতে ডিম দেয় মুরগি, একটিতে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম ফুটানো হয় এবং অন্যটিতে দেশি এবং চীনা মুরগির মধ্যে ক্রস করানোর প্রক্রিয়া চলে। যাতে করে দুই দেশের জাতের মাধ্যমে নতুন একটি জাত উদ্ভাবন করা যায়। এতে করে বাংলাদেশের দেশি মুরগীর স্বাদ ঠিক রেখে চীনা মুরগির গ্রোথ ঠিক রাখা যায়। তাতে কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়া যায়।

এস. এস রেয়ার ব্রিজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফার্মে রয়েছে চীনের শিল্কী, কাদানাদ, হুং ইয়াং চি, হো ইয়াংচি, চ কো ছাড়াও বিভিন্ন জাতের মুরগী। সেখানে দেশি জাতের মুরগিও রয়েছে।

ফিরোজ আলম জানান, তিনি চীন থেকে পণ্য এনে বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি বিক্রি করেন। তবে করোনার কারণে ব্যবসা ধীরগতিতে চলতে থাকে। এসময় তিনি ও তার স্ত্রী ওয়াং লু ফিং সুফি শখ করে কিছু মুরগির ডিম চীন থেকে দেশে আনেন এবং বাচ্চা ফুটান। পরে সেই মুরগির বাচ্চাগুলো লালন-পালান করতে থাকেন। তবে চীন থেকে জীবন্ত মুরগি আনতে গেলে অনেক নিয়ম-কানুন মানতে হয় বলে জানান তিনি। এ কারণে বিমানবন্দরে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সর মাধ্যমে ডিম আনেন তারা। পরে ডিম থেকে প্রক্রিয়াজাত করে বাচ্চা ফুটানো হয়।

তিনি জানান, দেশি মুরগি ৪ মাসে ৮০০-৯০০ গ্রাম হয়ে থাকে। আর চীনা মুরগী দুই মাসের মধ্যে আড়াই কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে দুই দেশের মুরগির সমন্বয়ে নতুন জাত উৎপাদন করা গেলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেশি মুরগির চেয়ে ভালো হবে। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে দেশি মুরগি লালন-পালন করতে গিয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। সেক্ষেত্রে দুটোর ক্রস যে জাত সৃষ্টি হবে তা পালনে অনেকেই আগ্রহী হবে। কারণ এটা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তিনি জানান, শুরুতে চীন থেকে মুরগি এনে লালন-পালন সহজ ছিল না। ধীরে ধীরে পরিবেশের সঙ্গে কাপ খাইয়ে রোগ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে লালন-পালনের উপযোগী করা হয়েছে। মুরগির ঠাণ্ডা বা গরম লাগার বিষয়গুলো সময় নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিছু কিছু ওষুধ চীন থেকে আনা হয়েছে। যেগুলো বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। দেশের বেকার যুবকদের কর্মমুখি করার ইচ্ছে। চাইলে যে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই জাতের মুরগি কিনে লালন-পালন করে বেকারত্ব দূর করতে পারে, মেটাতে পারে আর্থিক দৈন্যদশা।

ফিরোজের স্ত্রী সুফি জানান, তিনি আগে শিক্ষক ছিলেন। এখন যেহেতু বাংলাদেশে বসবাস করছেন, তাই চেষ্টা করছেন কৃষি বা খামারের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর। শখ থেকেই এই ইচ্ছে তৈরি হয়েছে তার। যেতেতু তিনি এ পথে একেবারেই নতুন, তাই কোনো মুরগি অসুস্থ হলে বা মারা গেলে কারণ জানার চেষ্টা করেন। পরে সেই বিষয়গুলো নিয়ে অনলাইনে সার্চ দেন। এরপর চীন থেকে ওষুধ এনে বা বাংলাদেশে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে চিকিৎসা করেন। এভাবে চীনের মুরগিকে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

এই দম্পতির মুরগির খামারের বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পাদ কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুজ্জামান জানান, তিনি এর মধ্যে খামারটি পরিদর্শন করেছেন। এখানে চীনা শিল্কী জাতের যে মুরগি আছে সেটা খুবই সম্ভাবনাময়। খুব কম সময়ের মধ্যে ডিম দেয় এবং দ্রুত বড় হয় ও ওজন বৃদ্ধি পায়। যেহেতু এই জাতের মুরগি দেশে একেবারেই নতুন, তাই রোগ-বালাই মোকাবিলায় তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আব্দুর রহমান আরমান/ইএ/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

মোহনগঞ্জের আদর্শনগর হাটে সপ্তাহে ৮-১০ লাখ হাঁসের ডিম, লেনদেন প্রায় কোটি টাকা

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের প্রতি মঙ্গলবারের এই হাট থেকে ডিম যায় ঢাকার পাইকারি বাজারে; জেলায় ১,০৭৬টি বাণিজ্যিক হাঁসের খামারে বছরে প্রায় ৪১ কোটি ৭০ লাখ ডিম হয়।

একাত্তর টিভি৫ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

অস্ট্রেলিয়ার ফিডলটে স্থায়ী ছাদের নিচে এখন প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশু

২০ থেকে ৩০টি বড় ফিডলট স্থায়ী ছাউনিতে বিনিয়োগ করেছে; কয়েক দশক আগে এমন ফিডলট ছিল মাত্র দুই-তিনটি।

Beef Central৫ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

পাঁচ দফা সুদ বৃদ্ধিতে কুইন্সল্যান্ডের গরু খামারির বছরে বাড়তি ৪০ হাজার ডলার

২০২৬ সালে ১.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধিতে ৩২ লাখ ডলার ঋণে বার্ষিক সুদ বেড়েছে প্রায় ২২.৫ শতাংশ, যদিও গরুর দাম ২০ বছরের উঁচু স্তরের কাছে।

Beef Central৫ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)