যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি স্প্রে ড্রোনের বাজার এখন অনিশ্চয়তায়। ছোট এই উড়োযন্ত্র ফসলের মাঠে কীটনাশক ছিটায় ও বীজ ছড়ায়। আমেরিকান স্প্রে ড্রোন কোয়ালিশন (এএসডিসি) বলছে, বিদেশে তৈরি ড্রোনের ওপর সরকারি কড়াকড়িতে সরবরাহ কমে গেছে, অথচ দেশি নির্মাতারা এখনো সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না।
সংগঠনটির সভাপতি এরিক রিঙ্গার জানান, ২০২৫ সালে নতুন স্প্রে ড্রোন বিক্রি ৬০ শতাংশ কমেছে, ২০২৪ সালের ৮,৯৫০টি থেকে নেমে ৩,৭১১টিতে। এর বড় কারণ চীনা নির্মাতা ডিজেআইয়ের চালান বারবার আটকে দেওয়া। জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা এসব চালান আটকায়, যদিও ডিজেআই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলছে। রিঙ্গারের ভাষায়, চাহিদার অভাবে নয়, সরবরাহের অভাবেই বিক্রি কমেছে।
চাপ আরও বাড়ছে। প্রায় দশ মাস আগে দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফসিসি বিদেশে তৈরি নতুন ড্রোন মডেল ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিক্রি নিষিদ্ধ করে। জুলাইয়ে সংস্থাটির নতুন এক প্রস্তাব ‘সামরিক মানের’ বিদেশি ড্রোন লক্ষ্য করে, কিন্তু তার সংজ্ঞায় পড়ে ৫৫ পাউন্ডের বেশি ওজনের ড্রোন, লাইডার বা থার্মাল সেন্সরযুক্ত ড্রোন এবং কীটনাশক ছিটানো ড্রোনও। ডিজেআইয়ের মতে, এতে কার্যত সব কৃষি ড্রোনই পড়ে যায়।
দেশেই তৈরি বিকল্প আসছে, তবে খরচ বেশি। রিঙ্গার জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ব্যাটারি ও মোটরের দাম চীনা যন্ত্রাংশের চেয়ে বহুগুণ বেশি। মিশিগানের এক্সেডি ড্রোনস, নর্থ ক্যারোলাইনার কৃষক রাসেল হেড্রিকের প্রতিষ্ঠিত রেভল্যুশন ড্রোনস, টেক্সাসের হাইলিও, মিজৌরির অ্যাগ্রি স্প্রে ড্রোনস ও ভারমন্টের সেরেস এয়ার দেশে স্প্রে ড্রোন তৈরি বা সংযোজন করছে।
এএসডিসি এফসিসির কাছে কৃষি স্প্রে ড্রোনকে প্রস্তাবের বাইরে রাখা এবং কয়েক বছরের রূপান্তরকাল চেয়েছে। তাদের জরিপে ৪৯ শতাংশ কৃষি অপারেটর দেশি যন্ত্রের জন্য বাড়তি দাম দিতে রাজি নন। তাই বিদেশি ড্রোন আমদানির শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থে দেশি প্রযুক্তি কেনায় ক্রেতাদের ভর্তুকির প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
বিক্রি কমলেও ব্যবহার বাড়ছে। ২০২৫ সালে স্প্রে ড্রোনের নিবন্ধন ৪৫.৬ শতাংশ এবং ড্রোনে ছিটানো জমি ৫৮.৭ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৬৪ লাখ একরে দাঁড়িয়েছে। নিবন্ধনে ডিজেআইয়ের অংশ ২০২৩ সালের ৮৩.৮ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৫২.৪ শতাংশে নেমেছে, এগিয়েছে এক্সএজি, ইএভিশন ও ট্যালোস। রিঙ্গার সতর্ক করেন, কৃষিতে ড্রোন ব্যবহারে ব্রাজিল এখন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
ছবি: R6, State & Private Forestry, Forest Health Protection / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)