সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮০%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

কৃষি উন্নয়নের ফলাফল কৃষকের ক্যানসার: আনু মুহাম্মদ

দেশে কৃষির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের ফলে কৃষক ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, 'ক্যানসার রোগীগের শতকরা ৬৪ শতাংশ যে কৃষক, এটি তো এমনি এমনি হয়নি। বর্তমানের যে উন্নয়ন ধারা তারই একটি ফলাফল। কৃষকরা ক্যানসারে আক্রান্ত

দেশে কৃষির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের ফলে কৃষক ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, 'ক্যানসার রোগীগের শতকরা ৬৪ শতাংশ যে কৃষক, এটি তো এমনি এমনি হয়নি। বর্তমানের যে উন্নয়ন ধারা তারই একটি ফলাফল। কৃষকরা ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে, অকৃষকরা ভাবে এটি তো আমাদের মধ্যে আসবে না। কিন্তু আল্টিমেটলি তো তাদের কাছেই আসছে।'

রোববার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য আন্দোলন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নিরাপদ, ন্যায্য, জলবায়ুসহিষ্ণু, লাভজনক, স্বাস্থ্যকর, দূষণমুক্ত, টেকসই ও সার্বভৌম কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা অর্জনের লক্ষ্যে 'নিরাপদ কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা বিষয়ক ২০ দফার বাস্তবায়ন চাই' শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির দাবি তুলে ধরেন নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য আন্দোলনের মুখপাত্র লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ।

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, 'দেশে উৎপাদন বাড়লেও কৃষক আত্মহত্যা করছে। কৃষকরা ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গ্রামে ফসল বাড়ছে, কিন্তু পানিতে বিষ। ভূপৃষ্ঠের পানি কমে যাচ্ছে। খাদ্য বিষাক্ত হয়ে উঠছে।'

তিনি বলেন, 'ক্যানসার রোগীদের বড় অংশই কৃষক। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। বর্তমান উন্নয়ন ধারারই ফল। এই সমস্যার প্রভাব শুধু কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শেষ পর্যন্ত পুরো সমাজই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'দেশে কৃষি উৎপাদন চার গুণের বেশি বেড়েছে। খাদ্য, মাছ ও সবজি উৎপাদনে একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এই উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উৎপাদন বাড়লেও কৃষক আত্মহত্যা করছে। কৃষকরা ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।'

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, 'সবুজ বিপ্লবের পর কৃষি গবেষণা হওয়া উচিত ছিল দেশীয় জাত, পানি সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিয়ে। কিন্তু গবেষণা হয়েছে কীভাবে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো যায় তা নিয়ে। এর ফলে মাটি, পানি ও মানুষ—সবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি এখন শুধু খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, এটি অসুস্থতা তৈরির এক বড় উৎসে পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রশ্ন তুলছে না। বরং পুরনো উন্নয়ন চিন্তার পুনরুৎপাদন হচ্ছে। তাই সমাজের সচেতন ও দায়িত্বশীল মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।'

এদিকে, দেশে নিরাপদ কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ফসলের বীমা, কৃষকের ঝুঁকি ভাতা চালু, কৃষি কার্ড প্রদান ও স্থানীয় বীজ নির্ভর কৃষির প্রসারসহ ২০ দফা দাবি তুলে ধরে 'নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য আন্দোলন'। সংগঠনটির প্রত্যাশা, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল এবং প্রার্থীরা নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক এসব প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবেন এবং এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আন্দোলনের মুখপাত্র লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, 'আমরা হঠাৎ করে কিংবা এখনই এই ২০ দফা বাস্তবায়ন করতে বলছি না। নিরাপদ কৃষির স্বার্থে এটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নয়—বরং স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন। এতে কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের মাটি অনুর্বর ও পুষ্টিহীন হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আন্দোলনের আরেক মুখপাত্র কৃষক দেলোয়ার জাহান বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৭২ শতাংশ মাটিতে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় যে পুষ্টি সেটি নেই। দেশের মাটিতে জিংকের ঘাটতি আছে প্রায় ৬০ শতাংশের ওপরে। এর মানে হচ্ছে, দেশের ৬০ শতাংশ মানুষের শরীরেও জিংকের ঘাটতি রয়েছে। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। কোনো ভাইরাস আক্রমণ করলে দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হবে। দেশের মাটি ভালো রাখতে হবে, বিষ প্রয়োগ করা যাবে না। নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

ইএইচটি/এমএমকে/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ভারতে এবার আগেভাগে আখমাড়াই, ১৫২ কলে চালু হলেও কমেছে চিনি আহরণের হার

৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভারতের ১৫২টি চিনিকল ১০৫.৪৩ লাখ টন আখ মাড়াই করে ৮.৪৫ লাখ টন চিনি তৈরি করেছে, গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি; তবে গড় আহরণের হার ৮.৪৪ থেকে নেমে ৮.০১ শতাংশ।

Rural Voice২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

এক দশকে ভুট্টা উৎপাদন সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৭ কোটি টনে নিতে চায় ভারত

হায়দরাবাদে প্রথম আন্তর্জাতিক ভুট্টা সম্মেলনে আইসিএআরের মহাপরিচালক এম এল জাট বলেছেন, ভারতের ভুট্টা উৎপাদন প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ টনে তুলতে হবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে দেড় গুণ।

Rural Voice২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

ব্রি ধান১১৫: উচ্চ ফলনের কালো চাল কৃষকের নতুন সুযোগ, লিখেছেন এম আব্দুল মোমিন

দেশের প্রথম উচ্চ ফলনশীল কালো চালের জাত ব্রি ধান১১৫ হেক্টরে গড়ে ৭.৪ টন ফলন দেয়; ভালো বীজ, প্রশিক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ আর বাজার সংযোগ থাকলে এ চাল কৃষকের লাভ ও মানুষের পুষ্টিতে কাজে আসবে বলে মনে করেন ব্রির কর্মকর্তা ড. এম আব্দুল মোমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ২ নভেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)