দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষিপ্রধান এলাকার শিশুরা শুধু মাঠে নয়, নিজের ঘর ও আশপাশেও কীটনাশকের সংস্পর্শে আসছে। ওয়েস্টার্ন কেপের গ্রাবাউ, পিকেটবার্গ ও হেক্স রিভার ভ্যালির ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৫৩৩ শিশুর ওপর দুই বছরের এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে, যা এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয় (ইউসিটি), সুইস ট্রপিক্যাল অ্যান্ড পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউট, বাসেল বিশ্ববিদ্যালয় ও লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পাঁচ দফায় ১,৮১৪টি প্রস্রাবের নমুনা নেন এবং ১৪টি বায়োমার্কার মাপেন। বায়োমার্কার হলো শরীরে কীটনাশকের রাসায়নিক চিহ্ন, যা সাম্প্রতিক সংস্পর্শের ইঙ্গিত দেয়। গবেষণাটি দক্ষিণ আফ্রিকার শিশুস্বাস্থ্য ও কৃষি কীটনাশক গবেষণা (ক্যাপসা) এবং প্রধান লেখক রেজিনা মোলোমোর পিএইচডি অভিসন্দর্ভের অংশ।
সম্প্রতি ঘরে কীটনাশক ব্যবহারের সঙ্গে ১২টি বায়োমার্কারের মাত্রা ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে, আর প্রয়োগের জায়গা ছাড়িয়ে বাতাসে ভেসে আসা কীটনাশক বা স্প্রে ড্রিফটের সঙ্গে আটটি বায়োমার্কার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। এমন সংস্পর্শ মোটেও বিরল নয়: প্রতি দফায় ৬০ শতাংশের বেশি শিশু জানিয়েছে, আগের সাত দিনে পাশের মাঠ থেকে স্প্রে ভেসে আসতে দেখেছে; পাঁচ দফার চারটিতেই প্রায় ৬০ শতাংশ জানিয়েছে ঘরে সম্প্রতি কীটনাশক ব্যবহারের কথা। খোলা উৎসের পানি খাওয়া পরিবারের শিশুদের কিছু বায়োমার্কার কল, নলকূপ বা বোতলের পানি খাওয়াদের চেয়ে বেশি ছিল।
গবেষণার সহলেখক ও ক্যাপসার প্রধান গবেষক, ইউসিটির পরিবেশ ও পেশাগত স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আকিল দালভি বলেন, "কীটনাশকে শিশুরা অসুস্থ হয়েছে কি না, এই বিশ্লেষণ তা দেখেনি; বরং কোন আচরণ ও পরিবেশগত কারণের সঙ্গে মাপযোগ্য সংস্পর্শের সম্পর্ক আছে, তা চিহ্নিত করেছে।" তিনি জানান, বেশির ভাগ কীটনাশক শরীর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যায়, তাই প্রস্রাবের পরীক্ষা সাম্প্রতিক সংস্পর্শই দেখায়; তবে পরিবেশে রাসায়নিক টিকে থাকায় শিশুরা বারবার সংস্পর্শে আসে।
গবেষণার ৪০ শতাংশ শিশু খামারে থাকে এবং ৮০ শতাংশের পরিবারের অন্তত একজন খামারে কাজ করেন। মোলোমো বলেন, ঘরে কীটনাশক আসতে পারে খামার থেকে আনা রাসায়নিক, ঘরের পোকা মারার পণ্য বা অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে কেনা কীটনাশক থেকে। সহলেখক, সুইস টিপিএইচের মহামারিবিদ স্যামুয়েল ফুরিমান বলেন, শিশুদের সংস্পর্শ কমাতে খামার ও ঘর দুই জায়গাতেই একসঙ্গে পদক্ষেপ দরকার, স্প্রে ড্রিফটে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিশেষত ঘরে ব্যবহৃত কীটনাশক নিরাপদে নাড়াচাড়ার প্রশিক্ষণ পর্যন্ত; গবেষকেরা নিয়মিত জৈব ও পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ জোরদারের পক্ষে।
প্রতিবেদনটি ফুড ফর মজানসির জন্য লিখেছেন রিদোভোনা এমবুলাহেনি।
ছবি: Jeff Vanuga, USDA Natural Resources Conservation Service / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)