জমি, মাটি ও পানির চাহিদা বাড়তে থাকায় এসব সম্পদ কীভাবে ব্যবহার, পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা করা হবে, সে সিদ্ধান্তে দেশগুলোকে সাহায্য করতে সমন্বিত ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার (আইএলইউপি) হালনাগাদ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। ১৯৯৩ সালের পর এটিই প্রথম বড় সংশোধন। ২৯ অক্টোবর আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে জীববৈচিত্র্য সনদের সপ্তদশ পক্ষ সম্মেলনে (কপ১৭) নির্দেশিকাটি তুলে ধরা হয়।
কাঠামোটি স্বেচ্ছামূলক, মানা বাধ্যতামূলক নয়। কৃষি, নগরায়ণ ও অবকাঠামোর চাহিদার সঙ্গে প্রকৃতি সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার, খাদ্য ও পানির নিরাপত্তা, ভূমি অবক্ষয় রোধ, জলবায়ু সহনশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভারসাম্য রাখতে এটি সরকারগুলোকে সাহায্য করবে। লক্ষ্য হলো তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের অংশগ্রহণে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
এফএও বলছে, নির্দেশিকাটি কোনো দেশের বিদ্যমান নীতি, পরিকল্পনা প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানের জায়গা নেবে না, বরং সেগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে চলবে। ফলে প্রতিটি দেশ নিজের অগ্রাধিকার ও আইন অনুযায়ী উপকরণ, সূচক ও পদ্ধতি বেছে নিতে পারবে। গত তিন দশকে যেসব প্রযুক্তি এসেছে, সংশোধনে সেগুলো যুক্ত হয়েছে: ভূস্থানিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা, ভূমি মূল্যায়ন, বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ব্যবস্থা।
এফএওর উপমহাপরিচালক বেথ বেকডল (Beth Bechdol) বলেন, "এর কেন্দ্রে আছে মাটির তথ্যজ্ঞান: মাটির তথ্য, মানচিত্র, পর্যবেক্ষণ আর স্থানীয় জ্ঞান মিলিয়ে ভূমি ব্যবহার, উৎপাদন, পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগের বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়া।"
নির্দেশিকায় নয় ধাপের একটি কাঠামো রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্তকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। নয়টি ধাপ মাঠে কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে, তা নিয়ে একটি প্র্যাকটিশনার্স গাইড পরে প্রকাশ করা হবে। সদস্য দেশ, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও অংশীদার সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিশ্বব্যাপী পরামর্শের মাধ্যমে এফএও নির্দেশিকাটি তৈরি করেছে, আর সংস্থার কৃষিবিষয়ক কমিটি তাদের ত্রিশতম অধিবেশনে (কোয়াগ৩০) এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কৃষির জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফসল ও প্রাণিসম্পদ এই জমি ও পানির ওপরই নির্ভর করে। এফএও নির্দেশিকাটিকে আরও দক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা গড়ার অংশ হিসেবে দেখছে। জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু ও মরুকরণবিষয়ক তিনটি রিও সনদের কাজকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করার উপায় হিসেবেও এটিকে তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
সূত্র: এফএও নিউজরুম




মন্তব্য
(০)