বাড়ির ভেজা দেয়াল, ছাদের কোণ বা পুরোনো ইটের গায়ে সবুজ শেওলা দেখলে অনেকে নোংরা ভেবে তুলে ফেলেন। বাংলা ট্রিবিউনের জীবনযাপন ডেস্কের লেখা বলছে, এই ছোট উদ্ভিদ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, আর্দ্রতা ধরে রাখা ও ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাস তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
শেওলা আর্দ্র ও ছায়াযুক্ত জায়গায় ভালো জন্মায়: মাটি, পাথর, ইট, গাছের গুঁড়ি বা দেয়ালে। অধিকাংশ শেওলার প্রকৃত শিকড় নেই; সূক্ষ্ম এক ধরনের গঠন দিয়ে এরা পৃষ্ঠে আটকে থাকে এবং পরিবেশ থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় উপাদান নেয়। তাই অনুকূল পরিবেশে অল্প জায়গাতেও দ্রুত ছড়ায়।
শেওলার বড় গুণ পানি ধরে রাখা। বৃষ্টির পানি বা বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখে, ফলে বনের মাটি আর্দ্র থাকে এবং ক্ষুদ্র জীবের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। কিছু এলাকায় শেওলার বিস্তার মাটিক্ষয় কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
সালোকসংশ্লেষণে শেওলাও বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নেয়। তবে লেখাটি স্পষ্ট করেছে, শেওলা সাধারণ গাছের চেয়ে চার গুণ বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, এই দাবি সব প্রজাতি ও পরিবেশে খাটে না; শোষণের পরিমাণ প্রজাতি, বিস্তার, পরিবেশ ও গবেষণার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। একইভাবে দেয়ালের শেওলা একা শহরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় না; সে কাজে গাছপালা, জলাভূমি, ছায়া ও পরিকল্পিত সবুজ পরিসরের ভূমিকা অনেক বড়।
বাড়ির ক্ষেত্রে সাবধানতাও দরকার। দীর্ঘদিন ভেজা থাকা, পানি চুঁইয়ে পড়া বা দেয়ালে ফাটলের কারণে শেওলা জন্মাতে পারে। তখন শেওলা পরিষ্কারের পাশাপাশি আর্দ্রতার উৎস খুঁজে বের করতে হবে, আর হাঁটাচলার পথে পিচ্ছিল শেওলা বিপজ্জনক।
লেখাটির মূল কথা, কোথায় শেওলা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে আর কোথায় তা সরানো জরুরি, সেই পার্থক্য বুঝে চলা। একে শুধু অপরিচ্ছন্নতার চিহ্ন হিসেবে না দেখে এর পরিবেশগত গুরুত্ব বোঝা দরকার।
ছবি: শেওলা জমা দেয়াল ও পানির পাইপ, Liz Sullivan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)