দেশে সবজিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ এবং ফলে ৪ শতাংশ বেশি কীটনাশক ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। খেজুরে ৫ শতাংশ এবং শুঁটকি মাছে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক পাওয়া গেছে। কৃষকদের অসচেতনতাই এর কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার ঢাকার ফার্মগেটে সার্ক এগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরেন কীটতত্ত্ববিদ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পরিচালক ড. নির্মল কুমার দত্ত।
তিনি বলেন, দেশে কীটনাশকের ব্যবহার অনেক বেড়েছে; পোকামাকড় রাসায়নিক কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে ওঠায় আরও বেশি কীটনাশক দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত কীটনাশকে উপকারী পোকা মারা যাওয়ায় ক্ষতিকর পোকার প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশে নতুন করে ২৫টির বেশি ক্ষতিকর পোকার আগমন ঘটেছে বলে জানান তিনি।
ড. দত্ত বলেন, “দেশে ৮০ শতাংশ পোকাই উপকারী। এগুলো ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসল রক্ষা করে।” তাঁর মতে, হাইলি হেজার্ড পেস্টিসাইড থেকে বেরিয়ে এসে রাসায়নিকের বদলে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৮টি মানদণ্ডে ২৫টি হাইলি হেজার্ড পেস্টিসাইড চিহ্নিত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, দেশে প্রায় ৮ হাজার কীটনাশক অনুমোদিত আছে, যাচাইয়ে এর ৪৭ শতাংশ শতভাগ বিশুদ্ধ পাওয়া গেছে। কর্মশালায় বক্তারা জানান, মধুপুরের আনারসে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১৬-১৭ শতাংশ বেশি ডোজ দেওয়া হচ্ছে।
অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম বলেন, নকল বালাইনাশকের কারণে পোকামাকড় না মরে উল্টো বংশবৃদ্ধি করছে। অধ্যাপক ড. মাহবুবা জাহান বলেন, জৈব বালাইনাশক প্রকৃতিতেই আছে, তাই উপকারী পোকামাকড়কে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বিএআরসির পরিচালক ড. মো. মাহফুজ আলমও বক্তব্য দেন; সঞ্চালনা করেন প্রধান ট্রেনিং অফিসার আল মোবাচ্ছের হোসেন।
প্রতিবেদনটি প্রতিদিনের বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিবেদকের।
ছবি: Jeff Vanuga, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)