খরা ও গ্রীষ্মের চরম তাপে ফলন কমে ও ইউরোপজুড়ে সরবরাহে টান পড়ায় ব্রিটেনের আলুচাষিরা এ মৌসুমে ৮ কোটি থেকে ১৬ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হারাতে পারেন—বলছে Energy and Climate Intelligence Unit (এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, ECIU)-এর বিশ্লেষণ। এর হিসাবে গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে মিলিয়ে ৩৫ লাখ টনের বেশি উৎপাদন কমবে, মোট ক্ষতি ৮০ কোটি ইউরো ছাড়াবে।
সবচেয়ে বড় পতনের পূর্বাভাস বেলজিয়ামে—২১ শতাংশ; এরপর ফ্রান্স (১৩), জার্মানি (১০) ও নেদারল্যান্ডস (৭)। ব্রিটেনের ফলন পাঁচ বছরের গড়ের প্রায় ১১ শতাংশ নিচে, ২০১৮ সালের খরার ফসলের সমান। ইসিআইইউর ভূমি, খাদ্য ও কৃষি বিশ্লেষক Tom Lancaster (টম ল্যাঙ্কাস্টার) বলেন, "শরতে ঢুকতেই রেকর্ড-ভাঙা গ্রীষ্মের তাপ ও খরার প্রভাব খাদ্য ও কৃষিতে স্পষ্ট হচ্ছে। ইউরোপের অন্যতম তৃষ্ণার্ত ফসল হিসেবে আলুর ফলনে জোর ধাক্কা অনিবার্যই ছিল।"
খারাপ মৌসুমটি এসেছে আবাদ কমার পর—গত বছরের অতিসরবরাহ ও দুর্বল দামের কারণে অনেক চাষি জমি কমিয়েছিলেন; তাই কম হেক্টরে কম ফলন মিলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ছোট ইউরোপীয় আলুর ফসল হতে পারে। ক্রেতাদের প্রতিযোগিতায় প্রক্রিয়াজাত আলুর দাম লাফিয়ে বেড়েছে: এপ্রিলে প্রায় মূল্যহীন বেলজিয়ামের মুক্তবাজারের আলু এখন টনপ্রতি ২০০ ইউরোর ওপরে, জার্মানির প্রক্রিয়াজাত আলু গ্রীষ্মের তলানি থেকে খাড়া উঠেছে, আর ব্রিটেনের প্রক্রিয়াজাতকারীরা বছরের শুরুর প্রায় ১৮০ পাউন্ডের বদলে টনপ্রতি ৩০০ পাউন্ডের বেশি দিচ্ছেন বলে খবর।
মানও উদ্বেগের: বেলজিয়ামে প্রধান ফ্রাইং জাত ফন্টানের ফলন গত বছরের অনেক নিচে, প্রক্রিয়াজাতকারীদের পছন্দের আকারের কন্দ কম। বিশ্লেষকদের মতে সাম্প্রতিক বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও ক্ষতি ফেরাবে না; মৌসুমটি পানি নিরাপত্তা ও সেচে বিনিয়োগের বিতর্ক নতুন করে খুলে দিয়েছে। চড়া দাম ক্ষতির খানিকটা পুষিয়ে দিলেও খরায় ফসল হারানো চাষিদের জন্য তা সীমিত সান্ত্বনা। প্রতিবেদন: Kelly Henaughen (কেলি হেনাহেন)।
ছবি: Paul King / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: The Scottish Farmer





মন্তব্য
(০)