২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টে ইউরোপের শহর-এলাকায় তাপজনিত অতিরিক্ত মৃত্যু ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে অনুমান করেছে একটি নতুন গবেষণা, যা রেকর্ডে সর্বোচ্চ। খবরটি দিয়েছে ইউরোনিউজ। একই এলাকায় আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০২২ সালে প্রায় ২৯ হাজার এবং ২০০৩ সালে ২৮ হাজার।
গবেষকেরা তাপজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর ৬৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩২ হাজার, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে হিসাব করেছেন, যার মূল কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো; শতাব্দীর শুরুতে এই হার ধরা হতো প্রায় ৪০ শতাংশ। একের পর এক তাপপ্রবাহে পশ্চিম ইউরোপের তাপমাত্রা ১৯৯১-২০২০ সালের গড়ের চেয়ে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি বেশি ছিল, কোনো কোনো দিন ১২ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি। আনুমানিক মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হয়েছে ১৭ জুন থেকে ১ জুলাইয়ের তাপপ্রবাহে, যখন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি বেশি ছিল।
গবেষণায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের ৮৫৪টি শহর-এলাকা নেওয়া হয়েছে, যেখানে ৩০টি দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ থাকে। তাপমাত্রার রেকর্ড আর তাপ ও মৃত্যুর ঐতিহাসিক সম্পর্ক ধরে, ভূগোল, আর্থসামাজিক অবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স বিবেচনায় নিয়ে মডেল তৈরি করা হয়। ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মের আলাদা একটি বিশ্লেষণের ফল সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে মোটামুটি মিলেছে; অনেক দেশ ২০২৬ সালের চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রকাশ করেনি।
গবেষণার সহলেখক, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ড. ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ‘এই সংখ্যা মনে করিয়ে দেয়, আরও গরম ও চরম গ্রীষ্ম জনস্বাস্থ্যে ক্রমেই বেশি আঘাত করছে।’ লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের সহলেখক ড. ম্যালকম মিস্ত্রি বলেন, তাপে মৃত্যু সরাসরি মাপা হয় না, প্রায়ই কম জানানো হয়; তাই তাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন অসুস্থ মানুষ, বয়স্ক ও খুব ছোট শিশু, আর যাঁরা শারীরিক বা আর্থিক কারণে গরম থেকে সরে যেতে পারেন না। গবেষকেরা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সুরক্ষা এবং দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অ্যাঞ্জেলা সাইমনস।
সূত্র: ইউরোনিউজ


মন্তব্য
(০)