২ অক্টোবর ভোরে দক্ষিণ পর্তুগালের সেরপার কাছে জাতীয় সড়ক ২৬০ আটকে দেয় কয়েক ডজন ট্রাক্টর ও খামারের যান। পর্তুগাল ও স্পেনকে যুক্ত করা এই মহাসড়কে প্রায় দুই কিলোমিটার যানজট হয়, স্পেন সীমান্তগামী মালবাহী ট্রাক থেমে যায়। শুধু জরুরি স্প্যানিশ পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া হয়।
অবরোধের আয়োজক সেরপা কৃষি উৎপাদক সমিতি। স্থানীয় চাষিরা বলছেন, ডিজেলের চড়া দামে নতুন বপন মৌসুমের শুরুতে কিছু খামার টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্তুগালের কৃষিমন্ত্রী হোসে মানুয়েল ফার্নান্দেস (José Manuel Fernandes) বলেন, এমন বিক্ষোভ বোধগম্য, তবে এতে মূল সমস্যা মিটবে না। অনিশ্চিত খরচ সামলাতে কৃষকের আর্থিক নমনীয়তা দরকার।
একই দাবিতে স্পেনের কৃষক ইউনিয়ন আসাখা, কোয়াগ ও উপা দেশজুড়ে বিক্ষোভের আয়োজন করছে বা হুমকি দিয়েছে। রেকর্ড জ্বালানি দামের প্রতিবাদে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্সের কৃষক ও জেলেরাও আলাদাভাবে বিক্ষোভ করেছেন।
ইউরোপীয় কমিশনের নতুন তথ্যে কারণটা স্পষ্ট। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইইউর কৃষিপণ্যের দাম বছরওয়ারি ৫.৮ শতাংশ কমেছে, টানা তৃতীয় প্রান্তিকের পতন। একই সময়ে উৎপাদন উপকরণের খরচ বেড়েছে ৪.৭ শতাংশ। দুধের দাম কমেছে ১৬.৬ শতাংশ, দানাশস্যের ৫.৬ শতাংশ। ২০টি সদস্যদেশে দাম কমেছে, সবচেয়ে বেশি ডেনমার্কে (১৭.২ শতাংশ) ও আয়ারল্যান্ডে (১৬.২ শতাংশ)। খরচের দিকে জ্বালানি ও লুব্রিকেন্ট বেড়েছে ২২ শতাংশ, সার ১৩.৪ শতাংশ।
দামের ওঠানামায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য জুলাইয়ে ৫৪ কোটি ইউরো বরাদ্দ দেয় ব্রাসেলস, তার মধ্যে ফ্রান্স পায় প্রায় ১০ কোটি ৭০ লাখ এবং স্পেন প্রায় ৫ কোটি ইউরো। মে মাসে সার নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়, আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালি সংকটের জবাবে, যা এ বছরের বেশির ভাগ সময় উপসাগর থেকে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া চালান কমিয়ে দিয়েছে। কৃষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই সহায়তা সমস্যার তুলনায় যথেষ্ট নয়। শরতের বপন শেষ হওয়ার আগে বাড়তি সহায়তা না এলে আন্দোলন জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্পেনের ইউনিয়নগুলো।
বিরোধটি ইইউ-মার্কোসুর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পুরোনো বিতর্কের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। ইউরোপের অনেক কৃষক সংগঠনের অভিযোগ, এই চুক্তি এমনিতেই উদ্বৃত্ত বাজারে দক্ষিণ আমেরিকার সস্তা পণ্য বাড়াবে। চুক্তিটি এখনো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায়।
ছবি: Luis Miguel Bugallo Sánchez (Lmbuga) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)