এল নিনোর খরায় কম্বোডিয়ার ধানক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, তাদের স্যাটেলাইটভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা ক্ষতি আসার আগেই কৃষকদের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করছে।
সিয়েম রিয়াপ প্রদেশের ৪৫ বছর বয়সী কৃষক সোখোউন চুত (Sokhoeun Chhut) বলেন, "জীবনে এত লম্বা খরা দেখিনি। এ বছর নিশ্চিত লোকসান। সব পুড়ে গেছে।" দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে এল নিনো বর্ষা পিছিয়ে দিচ্ছে এবং খরা তীব্র করছে; বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা মনে করছে, এবারের এল নিনো ২০২৬ সালের শেষ থেকে ২০২৭ সালের শুরুতে চূড়ায় পৌঁছাবে।
জুনে এফএওর কৃষি চাপ সূচক ব্যবস্থা (এএসআইএস), যা ৪১ বছরের স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ দিয়ে ফসলি জমির ওপর নজর রাখে, এবারের এল নিনোয় কম্বোডিয়াকে তীব্র খরার উচ্চ ঝুঁকিতে চিহ্নিত করে; আনুমানিক ১,২৭,৩০০ হেক্টর কৃষি ও চারণভূমি আক্রান্ত হতে পারে বলে হিসাব দেয়। কম্বোডিয়া এর আগেও ভুগেছে: ১৯৯৭-৯৮ সালের এল নিনোয় সরকার খরাপীড়িতদের জন্য প্রায় ২,৫০,০০০ টন চাল সহায়তা চেয়েছিল, আর ২০১৫-১৬ সালের এল নিনো ১৮টি প্রদেশের প্রায় ২৫ লাখ মানুষকে আক্রান্ত করে, কমিয়ে দেয় ধান ও মাছের উৎপাদন।
মাঠপর্যায়ে এফএও, কম্বোডিয়া সরকার ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়নে চলা পার্ল (PEARL) প্রকল্প জলবায়ু তথ্য, আগাম সতর্কতা ও হাতে-কলমে ব্যবস্থাকে এক করেছে। কৃষক মাঠ স্কুল ও প্রদর্শনী প্লটে কৃষকেরা শিখছেন মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে আচ্ছাদন ফসল, পানি আটকাতে জমির আল এবং বদলানো রোপণ-পঞ্জিকা। কম্বোডিয়ার কৃষি-আবহাওয়া সেবার বুলেটিন সামাজিক মাধ্যম ও চামকা (Chamka) নামের একটি স্থানীয় মোবাইল অ্যাপে পৌঁছায়, যেখানে বৃষ্টির পূর্বাভাসের সঙ্গে থাকে কখন সেচ দিতে হবে আর কখন অপেক্ষা করতে হবে তার পরামর্শ। ৪,০০০-এর বেশি কৃষক এগুলো পান।
১৯৮৭ সাল থেকে প্রেয়াহ ভিহেয়ার প্রদেশে চাষ করা সোখোম খা (Sokhom Kha) জৈব ধান, কাসাভা ও কাজুবাদাম চাষ করেন। এ মৌসুমে তিনি দশ দিন আগেই জেনেছিলেন বৃষ্টি হবে না। তিনি বলেন, "ওরা জমির আল বন্ধ করে নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত পানি ধরে রাখতে বলেছিল। এখন যেসব জমিতে ঠিকমতো আল আছে, সেখানে আগাছা কম, ক্ষতিও অনেক কম।" পূর্বাভাস তাঁকে এটাও জানায়, কখন ধান কাটা পিছিয়ে দিলে কাটা ধান বৃষ্টিতে ভিজবে না।
এফএওর প্রাকৃতিক সম্পদ কর্মকর্তা হোর্হে আলভার-বেলত্রান (Jorge Alvar-Beltrán) বলেন, "ফসলি জমিতে খরার চাপ পর্যবেক্ষণ করে এএসআইএস সরকার ও কৃষককে জীবিকা রক্ষা, খাদ্য সরবরাহ নিরাপদ রাখা এবং ক্ষতি অপূরণীয় হওয়ার আগে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় দেয়।" লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিজেদের ফসল ও মৌসুম অনুযায়ী এএসআইএস সাজাতে সাহায্য করছে এফএও; ১০টির বেশি দেশে এর জাতীয় সংস্করণ চালু আছে। এফএও জানিয়েছে, একই এল নিনো দক্ষিণ এশিয়াজুড়েও বর্ষা পিছিয়ে দিচ্ছে।
সূত্র: এফএও নিউজরুম




মন্তব্য
(০)