অভ্যন্তরীণ বাজারে আটার দাম লাগামছাড়া হয়ে ওঠায় প্রায় ১০ লাখ টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কৃষিপণ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকমের প্রতিবেদনের বরাতে দৈনিক বাংলা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পর দেশটিতে এত বড় পরিসরে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির উদ্যোগ এই প্রথম।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের (এফএএস) মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাকিস্তানে গত চার মাসে আটার দাম অন্তত ১৩ শতাংশ বেড়েছে; এ সময়ে প্রতি টন আটার দাম ৪২২ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৭৬ ডলার। আগের বছরের আগস্টের তুলনায় এক বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
এফএএসের প্রতিবেদনে এ অস্থিরতার জন্য সরকারের হঠাৎ বাজারনীতি বদলকে দায়ী করা হয়েছে। প্রাদেশিক সরকারগুলো আগের মতো কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি গম কেনা বন্ধ করে পুরো ক্রয়প্রক্রিয়া বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। সরকারি কেনাকাটা কমে যাওয়ায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ফসল তোলার পর টাকার প্রয়োজনে কম দামে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও মজুতদারেরা বাজারের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এফএএসের ধারণা, বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফেরাতে অন্তত ১৫ লাখ টন গম আমদানির দরকার হতে পারে। তবে সরকারের নির্ধারিত কোটা বিবেচনায় সংস্থাটি ২০২৬-২৭ বিপণন বছরের আমদানি প্রাক্কলন ১০ লাখ টনেই রেখেছে।
আগামী বছরের মার্চে দেশীয় নতুন গম ওঠার আগেই বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানি দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গম পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত।
ছবি: Sajid ali raza / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0) (পাকিস্তানের রুপাল উপত্যকায় গমখেত)
সূত্র: দৈনিক বাংলা





মন্তব্য
(০)