গ্রামের ডিম উৎপাদনকারী খামারি এখন খুঁজে নিতে পারেন কোন ব্যবসায়ী বেশি দাম দেবেন, আর শহরের ব্যবসায়ী খুঁজে নিতে পারেন কে কম দামে বেচতে রাজি। মুঠোফোন ও ইন্টারনেট ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী এখন নানা এলাকার দর মিলিয়ে দেখতে পারছেন।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের হরিপুর গ্রামের ২৮ বছর বয়সী পশুচিকিৎসক ও খামারি ডা. সাব্বির হোসেনের খামারে ৩ হাজার ৫০০ লেয়ার মুরগি। তিনি বলেন, ‘আমি দেশের সব জায়গার ডিমের দাম জানি। আমাদের কাছ থেকে ডিম কেনা আড়তদাররা দাম ঠিক করতে পারেন না, আমরাও পারি না।’ ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতিটি ডিম ১১ টাকায় বেচে লাভ করলেও বছরের অনেক মাস কম দামে বেচে লোকসান গুনেছেন তিনি। মধুপুরের ছোট খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, ইন্টারনেটসহ মুঠোফোন থাকায় যেকোনো সময় বাজারদর জানা যায়।
ঘাটাইলের পাকুটিয়ায় ডিমের আড়ত চালানো জাহাঙ্গীর খান প্রতিদিন কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার ডিম কিনে মৌলভীবাজার ও ঢাকার পাইকারদের কাছে বেচেন। সকালে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটে বাজারদর দেখে তিনি কৃষকদের ফোন করে দাম প্রস্তাব করেন। পোড়াবাড়ির কেরামত আলী খান টাঙ্গাইল ও জামালপুর থেকে কিনে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ডিম পাঠান ঢাকার কাপ্তানবাজারে।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যে, ঢাকার তেজগাঁওয়ে দিনে প্রায় ২০ লাখ ডিম কেনাবেচা হয়, যা ঢাকায় দিনে বিক্রি হওয়া প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডিমের ছোট একটি অংশ; সারা দেশে বাণিজ্যিকভাবে দিনে প্রায় ৫ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। আশুলিয়ায় কাজী ফার্মস দিনে প্রায় ৭ লাখ ডিম বেচে মোবাইল অ্যাপে নেওয়া দরের নিলামে: ক্রেতারা সকালে দাম ও পরিমাণ জানান, আর পুরো মজুত বিক্রি হয় এমন সর্বোচ্চ একটি দরে সব বিজয়ী ক্রেতা একই দামে ডিম পান।
কাজী ফার্মসের পরিচালক কাজী জাহিন হাসান বলেন, এখন চাহিদা জোগানের চেয়ে বেশি বলে নিলামে দাম কয়েক মাস আগের চেয়ে বেড়েছে; কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে জোগান বেশি থাকায় প্রতিটি ডিমের দাম নেমেছিল ৭ টাকা ৪৩ পয়সায়, আর চলতি বছর প্রায় পাঁচ মাস উৎপাদনকারীরা লোকসান করেছেন। ডিম ব্যবসায়ীদের সংগঠন এগ ট্রেডার্স মাল্টিপারপাস সমিতির নেতা আমানত উল্লাহ বলেন, ‘দাম নির্ভর করে সরবরাহ ও চাহিদার ওপর।’
সংশ্লিষ্টরা সাম্প্রতিক দাম বাড়ার পেছনে গরমের মাসে উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দাম কম থাকায় অনেক প্রান্তিক খামারি লোকসান এড়াতে মুরগি বেচে খামার বন্ধ করে দেন। খানা আয়-ব্যয় জরিপের (এইচআইইএস) তথ্যে, ২০০৫ থেকে ২০২২ সালে মাথাপিছু দৈনিক ডিম খাওয়া ৫ দশমিক ২ গ্রাম থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৭৩ গ্রাম হয়েছে, আর মুরগি ও হাঁসের মাংস ৬ দশমিক ৮ গ্রাম থেকে ২৬ দশমিক ১৭ গ্রাম।
প্রতিবেদন: ইত্তেফাক প্রতিবেদক।
সূত্র: ইত্তেফাক




মন্তব্য
(০)