অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার, আজ বিশ্ব ডিম দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রোটিন যা শক্তি যোগায় এবং সুরক্ষা দেয়’। দেশে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালিত হবে ১৩ অক্টোবর। দিনটিতে যাঁদের ডিম মানুষের পাতে সবচেয়ে সস্তা প্রোটিন তুলে দেয়, সেই খামারিরা বলছেন, বছরের বড় সময় তাঁদের ডিম বেচতে হয় উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের হিসাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ডিম উৎপাদন হয়েছিল ১ হাজার ৪৯৩ কোটি পিস, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০৯ কোটিতে। দশকে বৃদ্ধি ৬৮ শতাংশের বেশি, এখন দিনে ৬ কোটির বেশি ডিম হচ্ছে। এর ৮০ শতাংশ আসে প্রান্তিক খামার থেকে। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) তথ্যে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে লেয়ার খামার ৪০ হাজারের বেশি, এর ২০ হাজার ৪৬৪টি নিবন্ধিত।
খামারে এখন একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা ৫০ পয়সা বা তার বেশি, অথচ খামারিরা বিক্রি করছেন এর চেয়ে কমে। ঢাকার বাজারে ফার্মের বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকা বা তারও বেশিতে, অর্থাৎ উৎপাদন খরচের চেয়ে আড়াই টাকা বেশি। বগুড়া সদরের খামারি হাফিজুর রহমান জানান, ২০-২৫ দিনে ৫০ কেজির ফিডের বস্তায় দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা, বস্তা উঠেছে ৩ হাজার ৬৭৫ টাকায়। ব্রানের বস্তা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা আর ভুট্টা কেজিতে ২৫ থেকে ৩৭ টাকা হয়েছে। ‘বাজার যে দাম ঠিক করে, তাতেই বেচতে হয়,’ বলেন তিনি।
বিপিআইএর সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরীর দাবি, খামার থেকে বাজার পর্যন্ত পথে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিটি ডিমে দুই টাকা বা তার বেশি নিয়ে যান, অথচ দোষ পড়ে খামারির ঘাড়ে। তিনি খামারিরা যাতে সরাসরি বাজারে ডিম আনতে পারেন, সে রকম সরবরাহ চেইন গড়তে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। পোলট্রিতে খরচের অর্ধেকের বেশি যায় খাদ্যে, তাই ফিডের দাম কমানোর উদ্যোগও চান তিনি।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) আহ্বায়ক মশিউর রহমানের অভিযোগ, দাম বাড়লে সরকার সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দেয়, কিন্তু দাম পড়ে গেলে সর্বনিম্ন দাম ঠিক করে না, তাই খামারি ন্যায্য দাম পান না। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খামারিরা ৮-৯ টাকায় ডিম বেচেছেন। এর প্রতিবাদে রাজশাহী, গাজীপুর, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, নরসিংদী, ঢাকা, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ আর ডিম ভেঙে প্রতিবাদ হয়েছে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম না পেলেও খামারি উৎপাদন থামাতে পারেন না, কারণ ডিম পাড়ার উপযোগী মুরগি একবার তৈরি হলে তা বন্ধ রাখা যায় না। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মানদণ্ডে একজন মানুষের বছরে অন্তত ১০৪টি ডিম খাওয়া উচিত; প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে এখন জনপ্রতি বছরে ১৪০টির বেশি ডিমের জোগান আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২০০টিতে নেওয়ার লক্ষ্য সরকার ও খাতের।
ছবি: Rüdiger Wölk / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: ডেইলি অবজারভার





মন্তব্য
(০)