মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের তিন বন্ধু এমদাদুল হক মিলন, সাখাওয়াত হোসেন ও মো. তানিম মিয়া মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজিতে অয়েস্টার মাশরুম চাষ শুরু করে সফল হয়েছেন। এখন ভালো আয় হচ্ছে, আর তাঁরা খামার আরও বড় করার স্বপ্ন দেখছেন।
শুরুতে তাঁদের পরিকল্পনা ছিল গবাদিপশুর খামার। খোঁজ নিয়ে দেখেন, তাতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাগবে, যা জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। কম খরচে শুরু করা যায় এমন কৃষি উদ্যোগ খুঁজতে গিয়ে মাশরুমে আগ্রহী হন তাঁরা। নিজেরাই ২৭০ বর্গফুটের একটি ঘর প্রস্তুত করে সেখানে চাষ শুরু করেন।
শ্রীমঙ্গলের উষ্ণ আবহাওয়ায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ঘরে এগজস্ট ফ্যান বসানো হয়েছে, আছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও। উদ্যোক্তারা জানান, মাশরুম চাষে তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে জরুরি; গরমে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ ধরে রাখা কঠিন, তাই ঘরের পরিবেশ নিয়মিত দেখতে হয়। শীতে ফলন তুলনামূলক ভালো হয়।
এমদাদুল হক মিলন বলেন, চাকরির পেছনে সময় নষ্ট না করে নিজেরা কিছু করার চিন্তা থেকেই এই শুরু। আগে নিজেদের স্বাবলম্বী করা লক্ষ্য; উৎপাদন আর বাজারজাতকরণে অভিজ্ঞতা বাড়লে খামার বড় করে আরও তরুণের কাজের সুযোগ তৈরি করতে চান তাঁরা।
কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাশরুম চাষে বড় জমি লাগে না, তবে ভালো ফলনের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত স্পন, পরিচ্ছন্নতা আর তাপ-আর্দ্রতার নিয়ন্ত্রণ দরকার। শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, মাশরুম চাষে তরুণদের আগ্রহ ইতিবাচক; প্রশিক্ষণ আর প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিয়ে চাষ করলে ভালো করার সুযোগ আছে, আর কৃষি বিভাগ তরুণ উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের মৌলভীবাজার সংবাদদাতা।
ছবি: Livehealthy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)