সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তেজপাতা চাষ করছেন এক কৃষক

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের কাদিরকোল গ্রামের কৃষক জয়নুদ্দিন খাঁ ২০০৮ সালে ১০০টি চারা দিয়ে তেজপাতা চাষ শুরু করেন; ২০২০ সালের মার্চে তাঁর চার বিঘায় ৪০০ গাছ ছিল। তাঁর ভাষ্য, বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকার পাতা বিক্রি করেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে তেজপাতা চাষ করছেন এক কৃষক
এগ্রোবিজ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাদিরকোল গ্রামের কৃষক জয়নুদ্দিন খাঁ বাণিজ্যিকভাবে মসলা ফসল তেজপাতার চাষ করছেন। ২০২০ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৮ সালে এক বিঘা জমিতে ১০০টি চারা লাগিয়ে তিনি এই চাষ শুরু করেন; তখন তাঁর চার বিঘা জমিতে ৪০০টি তেজপাতা গাছ ছিল। জয়নুদ্দিন খাঁর ভাষ্য, বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকার পাতা বিক্রি করেন, আর এই আয়ে তাঁর সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।

ভারত সফর থেকে শুরু


জয়নুদ্দিন খাঁ জানান, ২০০৭ সালে প্রতিবেশী দেশ ভারতে বেড়াতে গিয়ে তিনি তেজপাতার চাষ দেখেন এবং নিজে চাষ করতে আগ্রহী হন। কিন্তু কোথাও চারা পাচ্ছিলেন না। পরে এক বন্ধুর কাছে খবর পান, খুলনার বেজেরডাঙ্গা এলাকায় চারা পাওয়া যায়। ২০০৮ সালে সেখান থেকে প্রতিটি ২০০ টাকা দরে ১০০টি চারা কিনে এনে বাড়ির পাশে অপেক্ষাকৃত জঙ্গলাকীর্ণ জমিতে লাগান।

চার বছর পর গাছের ডালপালা পাতায় ভরে গেলে তিনি পাতা ভাঙতে শুরু করেন। তিনি জানান, সেই থেকে প্রতিবছর দুবার গাছ থেকে পাতা ভেঙে বিক্রি করেন। লাভজনক হওয়ায় পরে আরও গাছ লাগিয়েছেন এবং চাষ ভালো আবাদি জমিতেও ছড়িয়েছেন। পেশায় কৃষক জয়নুদ্দিন খাঁর মোট ১৮ বিঘা আবাদি জমি আছে।

বগুড়ার আরডিএ প্রাঙ্গণে একটি তেজপাতা গাছ (Cinnamomum tamala), ২০১৬ সালে তোলা। ছবি: আফিফা আফরিন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার আরডিএ প্রাঙ্গণে একটি তেজপাতা গাছ (Cinnamomum tamala), ২০১৬ সালে তোলা। ছবি: আফিফা আফরিন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

চাষের পদ্ধতি ও ফলনের হিসাব


জয়নুদ্দিন খাঁর অভিজ্ঞতায়, তেজপাতা চাষে প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে জৈব সার ছিটিয়ে দিতে হয়, তারপর সামান্য রাসায়নিক সার দিয়ে চারা লাগাতে হয়। তিনি জানান, এই গাছ ছাগল-গরু খায় না, আর পাতা ডালের উঁচুতে থাকায় চুরির ভয়ও কম। তাঁর হিসাবে চারা লাগানোর চার বছর পর থেকে পাতা পাওয়া যায় এবং ৫০ বছর পর্যন্ত পাতা মেলে।

তিনি জানান, তাঁর প্রতিটি গাছে বছরে প্রায় ২০ কেজি পাতা হয়, যা বাজারে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়। পাতা পেতে তাঁর খরচ গাছপ্রতি ১০০ টাকার মতো। প্রথম বছর তিনি তিন মণ পাতা বিক্রি করেছিলেন, ২০২০ সালের মার্চে তা ১২ মণে দাঁড়ায়; পরের মৌসুমে ২০ মণ বিক্রির আশা করছিলেন তিনি। তাঁর মতে, এই চাষে পরিশ্রম কম, আর একবার লাগালে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায়। চাষের খুঁটিনাটি ও সার প্রয়োগের বিষয়ে আগ্রহী কৃষকদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া ভালো।

তেজপাতা গাছের পাতা; এর পাতায় লম্বালম্বি তিনটি শিরা থাকে। ছবি: জে এম গর্গ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
তেজপাতা গাছের পাতা; এর পাতায় লম্বালম্বি তিনটি শিরা থাকে। ছবি: জে এম গর্গ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

তেজপাতা কী


তেজপাতা লরেসি গোত্রের চিরসবুজ গাছ Cinnamomum tamala-র পাতা। উদ্ভিদটির আদি নিবাস ভারতের উত্তরাঞ্চল (আসাম ও পশ্চিম হিমালয়), বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমারসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ। ইউরোপীয় বে লরেল পাতায় একটি প্রধান শিরা থাকে, কিন্তু তেজপাতায় লম্বালম্বি তিনটি শিরা থাকে এবং এর ঘ্রাণ দারুচিনির মতো। ভারতের স্পাইসেস বোর্ডের তথ্যে, এর পাতা মূলত রান্নায় স্বাদ ও ঘ্রাণের জন্য ব্যবহৃত হয়; সেখানে সাধারণত গাছের বয়স ১০ বছর হলে পাতা সংগ্রহ শুরু হয় এবং অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে পরিণত পাতা তোলা হয়।

শুকনো তেজপাতা, রান্নায় মসলা হিসেবে যেভাবে ব্যবহৃত হয়। ছবি: সোনিয়া পাউয়েন / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
শুকনো তেজপাতা, রান্নায় মসলা হিসেবে যেভাবে ব্যবহৃত হয়। ছবি: সোনিয়া পাউয়েন / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

দেখাদেখি চাষে আরও কৃষক


জয়নুদ্দিন খাঁকে দেখে কাদিরকোল গ্রামের আরও দুই কৃষক তেজপাতা চাষ শুরু করেন। আবুল কালাম জানান, প্রথম বছর তিনি ৩৫ শতক জমিতে চাষ করে ভালো পাতা পাচ্ছেন এবং আরও বেশি জমিতে চাষের ইচ্ছা আছে। আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বাড়ির আঙিনায় ১০ শতক জমিতে তেজপাতা লাগিয়েছেন।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃপাংশু কুমার তখন বলেন, তেজপাতা খুবই লাভজনক ফসল। এ অঞ্চলের মানুষ সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ করেন না, তবে কাদিরকোলের জয়নুদ্দিন খাঁ করছেন এবং কৃষি বিভাগ তাঁকে নানাভাবে সহযোগিতা করে।

ছবি: কায়সার আহমাদ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ, প্রথম আলো (৮ মার্চ ২০২০), ভারতের স্পাইসেস বোর্ড, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোবিজ

২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা গড়বে পার্টনার প্রকল্প, ৬০ শতাংশই নারী

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পে ৬৪ জেলার ২০৮ উপজেলায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির কাজ চলছে; এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৬,৮৭৫ জন, প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র কিনতে মিলবে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি।

বাসস১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

বাঁশখালী-আনোয়ারা-পটিয়ায় মাঠে নামার অপেক্ষায় ৮ হাজার লবণচাষি, আমদানিতে দামের শঙ্কা

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আট হাজার চাষি; আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহেই মাঠে নামবেন তাঁরা, তবে আমদানির সিদ্ধান্তে ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তা।

আমার দেশ১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

ঠাকুরগাঁওয়ের হিমাগারে ৩২২ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, মৌসুমের বাইরে যাবে জাতীয় গ্রিডে

ঠাকুরগাঁও সদরের লক্ষী কোল্ডস্টোরেজে নিজস্ব অর্থায়নে এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় ৩২২ কিলোওয়াটের সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে; এতে হিমাগারের নিজের বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে, আর মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে।

জাগো নিউজ ২৪১০ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)