চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়া ও পাশের পেকুয়ার প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আট হাজার লবণচাষি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহেই মাঠে নামবেন তাঁরা। এসব এলাকায় শীতের শুরুতে লবণ উৎপাদন শুরু হয়।
বাঁশখালীর পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, কাথরিয়া ও খানখানাবাদের একাংশ, সঙ্গে আনোয়ারা ও পটিয়া লবণ উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানে লবণ হয় বাণিজ্যিকভাবে, দেশের চাহিদার বড় অংশ মেটায়; প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেয় বিসিক। সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি পলিথিন পদ্ধতিতে চাষ করায় উৎপাদন প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে।
বিসিক কক্সবাজার লবণশিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ায় ৯ হাজার ৯৬৫ একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছিল, চাষি ছিলেন সাত হাজার ৭৪০ জন; এবার জমি ও চাষি দুটোই বাড়তে পারে। এখন প্রতি মণ লবণের বাজারদর ৩৪০ টাকা।
তিনি আরও জানান, হালনাগাদ হিসাবে মাঠে প্রায় চার লাখ টন লবণ মজুত আছে, আর দেশে মাসে প্রায় দুই লাখ টন লবণ লাগে; বর্তমান মজুতে আড়াই মাসের মতো চাহিদা মেটানো সম্ভব। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে উৎপাদন কম হয় বলে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সরকার লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
চাষিরা এই আমদানি নিয়েই দুশ্চিন্তায়। গন্ডামারা ইউনিয়নের চাষি ফজল আহমদ বলেন, গত বছর তাঁরা বেশি জমিতে লবণ চাষ করেছিলেন, উৎপাদন খরচও বেড়েছে; এখন বিদেশি লবণ এলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হবে। লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দীনের দাবি, কাগজে ঘাটতি দেখানো হলেও আসলে ঘাটতি নেই, চাষির লবণ মাঠেই পড়ে আছে।
প্রতিবেদনটি আমার দেশের বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি মুহিববুল্লাহ ছানুবীর।
ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); কক্সবাজারে লবণ চাষের প্রতীকী ছবি
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)